পৃথিবীর চেয়ে ২৩ গুণ ভারী আর আড়াই গুণ বড়! মহাকাশে এমন এক পাথুরে গ্রহের খোঁজ মিলল যা বিজ্ঞানীদের সব ধারণাই বদলে দিল

গ্রহ তৈরির প্রচলিত সমস্ত বৈজ্ঞানিক তত্ত্বকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এক বিশাল ও অদ্ভুত ঘনত্বের এক্সোপ্ল্যানেট আবিষ্কার করলেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। ‘GJ 523b’ নামের এই মহাজাগতিক বস্তুটিকে বিজ্ঞানীরা ভালোবেসে ডাকছেন ‘মেগা-আর্থ’ বা মহা-পৃথিবী নামে। পাথুরে প্রকৃতির এই গ্রহটির ভর পৃথিবীর তুলনায় প্রায় ২৩ গুণ বেশি এবং আকৃতিতে এটি পৃথিবীর আড়াই গুণেরও বেশি বড়। মাত্র ১৭ কোটি বছর বয়সী এই গ্রহের আবিষ্কার মহাকাশ গবেষণায় নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
ইউনিভার্সিটি অফ উইসকনসিন-ম্যাডিসনের গবেষক ম্যাক্স ক্রফটের নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণায় জানা গিয়েছে, গ্রহটির ব্যাসার্ধ পৃথিবীর তুলনায় প্রায় ২.৫ গুণ বেশি হলেও এর ঘনত্ব অত্যন্ত বেশি। নাসার ট্রানজিটিং এক্সোপ্ল্যানেট সার্ভে স্যাটেলাইট বা TESS-এর মাধ্যমে প্রথম এটি নজরে আসে। পরবর্তী সময়ে অ্যারিজোনার টেলিস্কোপ দিয়ে এর অস্তিত্ব ও বিশাল ভরের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। নক্ষত্রকে মাত্র ১৭.৭৫ দিনে একবার প্রদক্ষিণ করা এই গ্রহটিকে ঘিরেই এখন শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
বিজ্ঞানীদের কৌতূহলের মূল কারণ হলো গ্রহ সৃষ্টির প্রচলিত মডেল। তত্ত্ব অনুযায়ী, কোনো পাথুরে গ্রহের কেন্দ্র পৃথিবীর ভরের ২০ গুণ ছাড়িয়ে গেলে তার শক্তিশালী মাধ্যাকর্ষণ চারপাশের গ্যাস টেনে নিয়ে তাকে বৃহস্পতি বা শনির মতো গ্যাসীয় দৈত্যে পরিণত করে। কিন্তু সমস্ত সীমা লঙ্ঘন করেও GJ 523b কীভাবে সামান্য বায়ুমণ্ডল নিয়ে একটি অতি-ঘন পাথুরে গ্রহ হিসেবে টিকে রইল, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে ধোঁয়াশা।
এই অসঙ্গতির ব্যাখ্যা খুঁজতে গবেষকরা মূলত দুটি সম্ভাব্য কারণ সামনে এনেছেন। প্রথমত, ‘অ্যাটমোস্ফিয়ারিক স্ট্রিপিং’ প্রক্রিয়ায় নক্ষত্রের প্রচণ্ড বিকিরণে গ্রহটির আদি গ্যাসীয় আবরণ উড়ে যেতে পারে। দ্বিতীয়ত, দুটি বিশাল পাথুরে প্রোটোপ্ল্যানেটের ভয়াবহ সংঘর্ষের ফলে এই গ্রহের জন্ম হওয়াও অসম্ভব নয়। দ্য অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল জার্নাল-এ প্রকাশিত এই আবিষ্কার ভবিষ্যতে মহাকাশ বিজ্ঞানের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।