বন্যার জল এবার আশীর্বাদ! কোসির উদ্বৃত্ত জল সেচে ব্যবহার করে ইতিহাস গড়তে চলেছে বিহার

দীর্ঘকাল ধরে যে কোসি নদীর নাম শুনলেই মানুষের মনে ভেসে উঠত সর্বগ্রাসী বন্যা, ঘরবাড়ি ভাঙন আর ফসল নষ্টের ছবি, সেই নদীকেই এবার কৃষকদের সমৃদ্ধির চাবিকাঠি হিসেবে গড়ে তোলার এক যুগান্তকারী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কোসির অতিরিক্ত এবং উদ্বৃত্ত জল সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করে তা সেচের কাজে ব্যবহার করার এক উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। এর ফলে একসময়ের ‘অভিশাপ’ এখন সীমাঞ্চলের লক্ষ লক্ষ কৃষকের মুখে হাসি ফোটাতে চলেছে।
প্রায় ৬,২৮২ কোটি টাকার এই বিশাল বাজেটের ‘কোসি-মেচি আন্তঃরাজ্য নদী সংযোগ প্রকল্প’-এর কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী স্বয়ং সুপাউল জেলার ছাতাপুর ব্লকের চেইনপুর গ্রাম পরিদর্শন করে নির্মাণকাজের গতি এবং গুণমান খতিয়ে দেখেন। কাজ দ্রুত ও নিখুঁতভাবে শেষ করতে তিনি সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রকল্পটি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে পূর্ণিয়া, আরারিয়া, কিষাণগঞ্জ এবং কাটিহার—এই চার জেলার প্রায় ২ লক্ষ ১৪ হাজার হেক্টর উর্বর কৃষিজমিতে নিশ্চিত ও অতিরিক্ত সেচ সুবিধা পৌঁছে যাবে। এর ফলে ওই অঞ্চলের কৃষকদের চাষাবাদের জন্য আর পুরোপুরি বৃষ্টির জলের ওপর নির্ভর করে থাকতে হবে না। একই জমিতে একাধিক ফসল ফলানোর পথও প্রশস্ত হবে। পূর্ব কোসি প্রধান খালের জল ধারণ ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন শাখা ও বিতরণী খাল নেটওয়ার্ক তৈরি করা হচ্ছে, যা সরাসরি মেচি নদীর অববাহিকায় জল সরবরাহ বাড়াবে।
দীর্ঘদিনের বন্যা এবং ভূমিক্ষয়ের মার খাওয়া কৃষকদের জীবনে এই জল ব্যবস্থাপনা এক নতুন বিপ্লব ঘটাতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। খাল ব্যবস্থার এই ব্যাপক সম্প্রসারণের ফলে একদিকে যেমন কৃষি উৎপাদন বাড়বে, তেমনই সামগ্রিকভাবে গ্রামীণ অর্থনীতির গ্রাফও উর্ধ্বমুখী হবে। একসময়ের ধ্বংসলীলা চালানো কোসির জলই এখন চাষের ক্ষেতে আশীর্বাদ হয়ে ঝরে পড়ার অপেক্ষায় রয়েছে, আর সেই সুদিনের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা সীমাঞ্চল।