টানা পতনের পর স্বস্তি! হুড়মুড় করে বাড়ল সেনসেক্স-নিফটি, শেয়ার বাজারে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন

টানা বেশ কয়েকদিনের একটানা দরপতনের পর অবশেষে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন বিনিয়োগকারীরা। বৃহস্পতিবার ভারতীয় শেয়ার বাজারে এক শক্তিশালী প্রত্যাবর্তন দেখা গিয়েছে। এ দিন সেনসেক্স প্রায় ৫০০ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ৭৭,৪৬৮ অঙ্কে পৌঁছেছে। পাশাপাশি, নিফটি ৫০ সূচকও ১০০ পয়েন্টের বেশি লাফিয়ে ২৪,২০০-এর উপরে লেনদেন শুরু করেছে। বিগত কয়েকটি সেশনে যেখানে নিফটি টানা সাত দিন এবং সেনসেক্স টানা চার দিন নিম্নমুখী ছিল, আজকের এই উত্থান বাজার মহলে নতুন আশার আলো দেখিয়েছে। প্রধান সূচকগুলির পাশাপাশি মিড-ক্যাপ এবং স্মল-ক্যাপ স্টকগুলিতেও জোরদার ক্রয়ের প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।

এ দিনের বাজার চাঙ্গা হওয়ার পেছনে মূলত বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ কাজ করেছে। চলুন দেখে নেওয়া যাক কোন ৫টি প্রধান অনুঘটকের জোরে ঘুরে দাঁড়াল বাজার:

মার্কিন বন্ডের ফলন পতন: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘমেয়াদী সরকারি বন্ডের ইল্ড কমে যাওয়ায় বিশ্ব বাজারের পাশাপাশি ভারতীয় বাজারের জন্যও অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ১০-বছর এবং ৩০-বছর মেয়াদী মার্কিন বন্ডের ফলন কিছুটা নামায় ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগের ক্ষেত্রগুলিতে স্বস্তি ফিরেছে।

রুপির শক্তি বৃদ্ধি: বৃহস্পতিবার লেনদেনের শুরুতে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপি ১৭ পয়সা শক্তিশালী হয়ে ৯৫.৫৬-এ দাঁড়িয়েছে। ডলারের এই সাময়িক দুর্বলতা দেশীয় বাজারকে কিছুটা হলেও অক্সিজেন জুগিয়েছে।

শর্ট কভারিংয়ের সুবিধা: একটানা সাতটি সেশনে নিফটি প্রায় ২ শতাংশের বেশি পতনের মুখে পড়েছিল, যা গত ১১ মাসের মধ্যে দীর্ঘতম নিম্নমুখী ধারা। বাজার আরও পড়ার আশঙ্কায় যাঁরা শর্ট পজিশন নিয়েছিলেন, তাঁরা লোকসান সীমিত করতে বা মুনাফা তুলতে নতুন করে শেয়ার কেনায় জোর দেন। এর ফলেই বাজারে এই আকস্মিক শর্ট-কভারিংয়ের জোয়ার দেখা যায়।

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তা: বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা বা এফআইআই (FII)-রা সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে নিয়মিত শেয়ার কেনা চালিয়ে যাচ্ছেন। এনএসই-র প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েকটি সেশনে তাঁরা হাজার হাজার কোটির শেয়ার কিনেছেন, যা বাজারের পতন রোধে বড় ভূমিকা রেখেছে।

ইতিবাচক বৈশ্বিক সংকেত: এশিয়ার অন্যান্য প্রধান বাজারগুলি থেকেও এ দিন জোরালো সমর্থন মিলেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক ৬ শতাংশের বেশি লাফানোর পাশাপাশি জাপানের নিক্কেই এবং হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচকও ঊর্ধ্বমুখী ছিল। যার ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে ভারতীয় দালাল স্ট্রিটেও।

ভবিষ্যতের গতিপ্রকৃতি কী হতে পারে?

বাজার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, একদিনের এই ধাক্কা সামলানোকে সম্পূর্ণ ট্রেন্ড রিভার্সাল বা মন্দা কেটে যাওয়ার পাকাপাকি লক্ষণ বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। নিফটির ক্ষেত্রে আগামী দিনে ২৪,৩০০ পয়েন্টের স্তরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। সূচকটি যদি এই স্তরের উপরে নিজেদের টিকিয়ে রাখতে পারে, তবে তা দ্রুত ২৪,৪৫০-এর দিকে এগোতে পারে। অন্যদিকে, ২৪,০০০ পয়েন্টকে একটি শক্তপোক্ত সাপোর্ট বা ভিত্তি হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। এই স্তরের নিচে বাজার নামলে আগামী দিনে ফের ২৩,৮০০-র দিকে পতনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে সতর্কতা জারি করেছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *