“আমরা ভারতীয়, আমাদের চিনা বলবেন না!” নিজ দেশেই বর্ণবিদ্বেষের শিকার অরুণাচলের ছোট্ট মেয়ে, ভাইরাল ভিডিওতে কান্নার রোল

ভাবুন তো, নিজের দেশেই আপনাকে কেউ বিদেশি বলে ডাকছে, অথচ আপনার বয়স সবেমাত্র খেলাধুলা আর স্কুলের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ। অরুণাচল প্রদেশের ইটানগরের এক ছোট্ট বালিকার সঙ্গে ঠিক এই ঘটনাই ঘটেছে। সহনাগরিকদের এহেন বর্ণবিদ্বেষমূলক মন্তব্যে তার নিষ্পাপ চোখে যেমন জল এসেছে, তেমনই তার হৃদয় ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যেখানে ছোট্ট ওই মেয়েটির কথা এবং হাতজোড় করে করা আবেদন দেশের প্রতিটি সংবেদনশীল নাগরিককে গভীরভাবে ভাবতে বাধ্য করেছে।

ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওটিতে শিশুটিকে তার ভাঙা ভাঙা ও সরল উচ্চারণে পুরো ঘটনাটি বর্ণনা করতে দেখা যায়। সে জানায়, এক অপরিচিত ব্যক্তি তাকে রাস্তাঘাটে এসে প্রশ্ন করেছিল, “তুমি কি চিনা?” এরপর কান্নায় ভেঙে পড়ে সে বলে, “আমরা ভারতীয়। এভাবে কথা বলবেন না। আপনারা যখন আমাদের চিনা বলেন, তখন আমাদের খুব রাগ হয় এবং মন খারাপ হয়ে যায়।”

এই নিষ্পাপ ও বেদনাভরা মুহূর্তটি এখানেই শেষ হয়নি। ইটানগরের স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে নিজের পরিচয় স্পষ্ট করে সে হাতজোড় করে সকলের উদ্দেশ্যে মিনতি করে বলে, “দয়া করে আমাদের চিনা বলবেন না, ভারতীয় বলুন। আমাদের চিনা বললে আমাদের খুব কষ্ট হয়।” ভিডিওর একেবারে শেষে তার সেই শিশুসুলভ গলায় ‘দয়া করে’ বলার দৃশ্যটি দেখে যে কারও মন গলে যেতে বাধ্য।

প্রসঙ্গত, উত্তর-পূর্ব ভারতের মানুষেরা প্রায়শই তাঁদের চেহারা ও শারীরিক গঠনের কারণে মূল ভূখণ্ডের একাংশের মানুষের দ্বারা জাতিগত কটূক্তি ও বর্ণবৈষম্যের শিকার হন। কখনও তাঁদের বহিরাগত বা চিনা বলা হয়, আবার কখনও তাঁদের ভারতীয় জাতীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। তবে এই ছোট্ট মেয়েটির ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই তা মানুষের মনে গভীর দাগ কেটেছে। সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে উপচে পড়েছে ভালোবাসা ও সহানুভূতির বার্তা।

ভিডিওটি দেখে এক নেটিজেন লিখেছেন, “আরে সোনা, কথাটা একজন বোকাসোকা মানুষ বলেছে। এটা নিয়ে প্লিজ মন খারাপ করো না।” আরেকজন ক্ষোভ প্রকাশ করে রসিকতা ও ভালোবাসার সুরে লিখেছেন, “বাবা, আমাকে বল তোকে কে এই কথা বলেছে, আমরা দুজনে মিলে তাকে শিক্ষা দেব।” অন্য এক ব্যবহারকারী সান্ত্বনা দিয়ে লিখেছেন, “বোকাুসোকা মানুষের কথায় মন খারাপ করতে নেই। তুমি আমাদের দেশের গর্ব।”

বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, এই ধরনের ঘটনা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং হতাশাজনক। দেশের উত্তর-পূর্বাংশের ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও বানিয়ে হাতজোড় করে মিনতি করতে হচ্ছে যেন তাদের চিনা না বলা হয়। নিজের দেশেই কোনো ভারতীয়কে যেন আর নিজের পরিচয় প্রমাণ করার এই লড়াই লড়তে না হয়। সহনাগরিকদের প্রতি সমাজ সচেতনতা, সহানুভূতি এবং যথাযথ শ্রদ্ধাবোধ গড়ে তোলাই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *