‘ধামাল’-এর স্বত্ব নিয়ে কোটি টাকার কেলেঙ্কারি! কাঠগড়ায় পরিচালক-প্রযোজক, দায়ের হল FIR

বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় কমেডি ছবি ‘ধামাল’-এর স্বত্ব নিয়ে আইনি সংঘাতে জড়ালেন পরিচালক ইন্দ্র কুমার এবং প্রযোজক অশোক ঠাকেরিয়া। ২০০৭ সালে মুক্তি পাওয়া এই ছবিটির স্বত্ব বিক্রি ঘিরে প্রায় দেড় কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে তাঁদের বিরুদ্ধে। মুম্বইয়ের এক চলচ্চিত্র পরিবেশক সংস্থার মালিকের অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই আম্বোলি থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগকারী বিকাশ বলদেবরাজ সাহনি মুম্বইয়ের চলচ্চিত্র পরিবেশনা সংস্থা ‘গ্র্যান্ড মাস্টার’-এর মালিক। তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৯ সালে অশোক ঠাকেরিয়ার ‘মারুতি ইন্টারন্যাশনাল’-এর সঙ্গে একটি চুক্তি করে তাঁর সংস্থা। সেই চুক্তিপত্রে ১৫ অক্টোবর ২০১৯-এ ‘ধামাল’ ছবিটির স্থায়ী বিশ্বব্যাপী পরিবেশনা, ডিজিটাল এবং কপিরাইট স্বত্বের জন্য দেড় কোটি টাকা প্রদান করা হয়।
বিকাশের দাবি, চুক্তির সময় তাঁকে সম্পূর্ণভাবে আশ্বস্ত করা হয়েছিল যে ছবিটির স্বত্ব এর আগে অন্য কোনও সংস্থাকে বিক্রি করা হয়নি। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি জানতে পারেন যে, গ্র্যান্ড মাস্টারের সঙ্গে চুক্তির চার বছর আগেই অর্থাৎ ২০১৫ সালেই ছবিটির লাইফটাইম ওটিটি এবং ডিজিটাল স্বত্ব ‘শেমারু এন্টারটেইনমেন্ট লিমিটেড’-কে দিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
তদন্তে আরও প্রকাশ পেয়েছে যে, ২০২০ সালের জানুয়ারিতে অশোক ঠাকেরিয়া গ্র্যান্ড মাস্টারের দফতরে গিয়ে শেমারুর সঙ্গে আগের চুক্তির বিষয়টি জানান, যার ফলে ছবির স্বত্ব নিয়ে চরম বিভ্রান্তি তৈরি হয়। এরপর ২০২০ সালের ২৯ অক্টোবর মারুতি ইন্টারন্যাশনাল ও শেমারুর মধ্যে একটি সম্পূরক চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়, যার জেরে প্রযোজকের কাছে কেবল একটি স্যাটেলাইট চ্যানেলের স্বত্বই অবশিষ্ট থাকে বলে অভিযোগকারীর দাবি।
অন্যদিকে, গ্র্যান্ড মাস্টার ২০২০ সালের ২০ মার্চ ‘ধামাল’ ছবিটির সিনেমাটোগ্রাফ কপিরাইটের জন্য আবেদন করে এবং ২০২৩ সালের ২৮ এপ্রিল কপিরাইট দফতর থেকে শংসাপত্র লাভ করে। বিকাশের দাবি, বর্তমানে তাঁদের হাতেই সরকারি কপিরাইট শংসাপত্রের পাশাপাশি ছবিটির মূল নেগেটিভও রয়েছে। তবে স্বত্বের মালিকানা নিয়ে বিভ্রান্তির জেরে একাধিক শীর্ষস্থানীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে তাঁদের চুক্তি ভেস্তে গেছে এবং সংস্থাটি বিশাল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে।
২০২৩ সালের ২ জানুয়ারি অভিযুক্তদের আইনি নোটিস পাঠানো হলেও সন্তোষজনক উত্তর না মেলায় শেষ পর্যন্ত পুলিশের দ্বারস্থ হন অভিযোগকারী। গত ১৭ আগস্ট আম্বোলি থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩১৮(৪) এবং ৩(৫) ধারায় প্রতারণা ও অভিন্ন উদ্দেশ্যে অপরাধ সংঘটনের অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে। এই ঘটনার পর মারুতি ইন্টারন্যাশনালের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমেই এই সমস্যার সমাধান করা হবে। বর্তমানে পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।