অনলাইনে খাবার অর্ডার করলেই পকেট ফাঁকা! এক ধাক্কায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে চলেছে খরচ?

বর্তমান ব্যস্ত জীবনে রান্নার ঝামেলা এড়াতে বা সময়ের অভাবে অনেকেই আজকাল অনলাইন ফুড ডেলিভারি অ্যাপগুলির ওপর নির্ভরশীল। বাজার থেকে শুরু করে জামাকাপড় কিংবা রেস্তোরাঁর খাবার—সবকিছুই এখন এক ক্লিকে হাতের নাগালে। বিশেষ করে অনলাইন খাবার ডেলিভারির ক্ষেত্রে জোম্যাটোর মতো প্ল্যাটফর্মগুলির জনপ্রিয়তা আকাশছোঁয়া। তবে নিয়মিত খাবার অর্ডার করেন যাঁরা, তাঁদের জন্য অপেক্ষা করছে এক বিরাট দুঃসংবাদ। খুব শীঘ্রই অনলাইনে খাবার অর্ডার করার খরচ এক ধাক্কায় ১০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে জল্পনা শুরু হয়েছে। অর্থাৎ, বর্তমানে যে খাবারের দাম ৫০০ টাকা পড়ছে, তা বেড়ে হতে পারে ৫৫০ থেকে ৬৫০ টাকা পর্যন্ত।
দাম বৃদ্ধির আসল কারণ কী?
জোম্যাটো লিমিটেডের চিফ সাসটেইনিবিলিটি অফিসারের তথ্য অনুযায়ী, এই মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ হলো পরিবেশবান্ধব এবং বায়োডিগ্রেডেবল বা পচনশীল প্যাকেজিংয়ের ব্যবহার। বর্তমানে বেশিরভাগ অনলাইন ফুড ডেলিভারিতে ক্ষতিকর প্লাস্টিকের কন্টেনার বা মোড়ক ব্যবহার করা হয়। সাধারণত প্রতি খাবারের অর্ডারের মোট খরচের ৫ শতাংশ যায় এই সাধারণ প্যাকেজিংয়ের জন্য, যা ক্রেতাদেরই বহন করতে হয়। পরিবেশ দূষণ রোধ করতে এবার প্লাস্টিকের বদলে পরিবেশবান্ধব উপাদান ব্যবহার করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সবচেয়ে বড় বাধা কোথায়?
পরিবেশ রক্ষার্থে প্লাস্টিকের বদলে জৈব উপাদান ব্যবহার করা জরুরি হলেও, এর সবথেকে বড় অন্তরায় হলো চড়া দাম। প্রচলিত প্লাস্টিক প্যাকেজিংয়ের তুলনায় পরিবেশবান্ধব উপকরণের উৎপাদন খরচ অনেকটাই বেশি। ফলে অতিরিক্ত খরচের ভয়ে অনেক ক্রেতাই এই বিকল্প বেছে নিতে নারাজ। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের প্যাকেজিংয়ের ব্যবহার যদি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়, তবে ভবিষ্যতে উৎপাদন খরচ কমে দামও নাগালে আসবে। যদিও এই পুরো বিষয়টি বেশ সময়সাপেক্ষ।
গ্রাহকদের জন্য বিশেষ ফিচার:
এই সমস্যার একটি ভারসাম্যপূর্ণ সমাধান খুঁজতে ইতিমধ্যেই স্টার্টআপ এবং বিভিন্ন রেস্তোরাঁকে কম খরচে টেকসই প্যাকেজিং তৈরির কাজে উৎসাহিত করছে জোম্যাটো। পাশাপাশি, গ্রাহকদের সুবিধার্থে অ্যাপে একটি নতুন ‘লো প্লাস্টিক প্যাকিং ফিল্টার’ চালু করা হয়েছে। এই বিশেষ ফিচারের সাহায্যে ক্রেতারা খুব সহজেই সেই সমস্ত রেস্তোরাঁকে চিহ্নিত করতে পারবেন, যেগুলি তুলনায় অনেক কম প্লাস্টিক প্যাকেজিং ব্যবহার করে খাবার সরবরাহ করে। পরিবেশ রক্ষা এবং পকেট বাঁচাতে এই বিকল্পটি কতটা কার্যকরী হয়, এখন সেটাই দেখার।