‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র প্রচারে নয়া কৌশল! উপভোক্তাদের নিয়ে বড় সম্মেলনের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

রাজ্যের সাধারণ মানুষের কাছে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র সুফল ও এর বাস্তব চিত্র আরও ব্যাপকভাবে তুলে ধরতে এবার নতুন কৌশল গ্রহণ করল রাজ্য সরকার। এই প্রকল্পের আর্থিক সহায়তা পাওয়া উপভোক্তাদের নিয়ে প্রতিটি এলাকায় বিশেষ সম্মেলন এবং জনসংযোগ কর্মসূচি আয়োজনের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সম্প্রতি রাজ্য মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে দলের বিধায়কদের এই বিষয়ে বিশেষভাবে সক্রিয় হওয়ার জন্য কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সূত্রে জানা গিয়েছে, মন্ত্রিসভার বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন যে, শুধুমাত্র সরকারি স্তরে প্রকল্পের ঘোষণা বা উপভোক্তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আর্থিক সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার মধ্যেই এই উদ্যোগ সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। বরং সরকারের জনকল্যাণমূলক কাজ যে বাস্তবেই সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে, তা প্রকাশ্যে আনা অত্যন্ত জরুরি। সেই লক্ষ্যেই যে সমস্ত নাগরিক ইতিমধ্যেই অন্নপূর্ণা যোজনার আওতায় আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন, তাঁদের সঙ্গে নিয়ে স্থানীয় স্তরে বড়সড় সম্মেলন আয়োজনের রূপরেখা প্রস্তুত করা হয়েছে। সম্প্রতি এই প্রকল্প নিয়ে বিরোধীদের বিভিন্ন প্রচারের বিরুদ্ধে দলের ভাবমূর্তি মজবুত করতেও এই কর্মসূচি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী, প্রতিটি বিধানসভা এলাকায় বিধায়কদের সরাসরি মাঠে নেমে এই কর্মসূচি পরিচালনা করতে হবে। এই বিশেষ সম্মেলনগুলিতে উপভোক্তারা নিজেরাই উপস্থিত থেকে তাঁদের অভিজ্ঞতা এবং প্রাপ্ত সুবিধার কথা সকলের সামনে তুলে ধরবেন। রাজ্য প্রশাসনের মূল লক্ষ্য হলো, সাধারণ মানুষের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দেওয়া যে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা সম্পূর্ণ নিয়মমাফিক এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে উপভোক্তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হচ্ছে। সরাসরি প্রাপকদের অভিজ্ঞতা সামনে এলে প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে কোনো বিভ্রান্তি থাকবে না এবং প্রচারও অনেক বেশি জোরালো হবে।
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, অন্নপূর্ণা যোজনাকে সামনে রেখে তৃণমূল স্তরে সরকারের উন্নয়নমূলক ভাবমূর্তি আরও সুদৃঢ় করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও শহরতলির সাধারণ মানুষকে প্রকল্পের কার্যকারিতা সম্পর্কে অবহিত করতে সুবিধাভোগীদের মাধ্যমেই প্রচারের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন সরকারি সহায়তার সাফল্য জনসাধারণের কাছে প্রতিষ্ঠিত হবে, তেমনই অন্যদিকে স্থানীয় স্তরে জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সাধারণ মানুষের নিবিড় জনসংযোগ গড়ে উঠবে। মুখ্যমন্ত্রীর এই স্পষ্ট বার্তার পর এখন থেকেই নিজ নিজ এলাকায় উপভোক্তাদের তালিকা সংগ্রহ করে সম্মেলন আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করতে চলেছেন বিধায়করা।