গাড়ির ইঞ্জিন বাঁচাতে কি ফের ফিরছে ই-১০ পেট্রোল? চালকদের জন্য বিরাট স্বস্তির খবর আনতে চলেছে সরকার

দেশে ই-২০ পেট্রোলের ব্যবহার ক্রমশ বাড়লেও, তা নিয়ে সাধারণ গাড়িচালক ও মালিকদের মনে দানা বাঁধছে নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক। এই পরিস্থিতিতে দেশের পুরনো পেট্রোল চালিত গাড়ি এবং দু-চাকার যানবাহনের কথা মাথায় রেখে ফের ই-১০ পেট্রোলের বিকল্প বাজারে ফিরিয়ে আনার কথা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে কেন্দ্রীয় সরকার। জ্বালানি ক্ষেত্রে আসতে চলা এই সম্ভাব্য বড় পরিবর্তনটি নিয়ে ইতিমধ্যেই চর্চা শুরু হয়েছে অটোমোবাইল মহলে।

কেন হঠাৎ ই-১০ পেট্রোল ফিরিয়ে আনার কথা ভাবছে সরকার?

বর্তমানের ই-২০ পেট্রোলে যেখানে কুড়ি শতাংশ ইথানল মেশানো থাকে, সেখানে পুরনো ই-১০ পেট্রোলে ইথানলের পরিমাণ থাকে মাত্র দশ শতাংশ এবং বাকি নব্বই শতাংশ সাধারণ পেট্রোল। দেশের রাস্তায় এমন লক্ষাধিক পুরনো চার চাকা ও দু-চাকা রয়েছে, যেগুলির ইঞ্জিন মূলত ই-১০ পেট্রোলের উপযোগী করে ডিজাইন করা হয়েছিল। বহু পুরনো গাড়ির ম্যানুয়ালেও পরিষ্কার নির্দেশ দেওয়া থাকে যে, সেখানে ১০ শতাংশের বেশি ইথানলযুক্ত জ্বালানি ব্যবহার করা উচিত নয়। উদাহরণস্বরূপ, বেশ কিছু পুরনো হুন্দাই মডেলের ক্ষেত্রে এই সতর্কবার্তা রয়েছে। গাড়িচালকদের প্রশ্ন, যে ইঞ্জিনগুলির জন্য ই-২০ উপযুক্ত নয়, সেগুলিতে কেন জোর করে উচ্চ ইথানলযুক্ত জ্বালানি ব্যবহার করতে হবে?

যদিও সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, মারুতি সুজুকির প্রায় দেড় কোটি পুরনো গাড়ির সার্ভিস ডেটা খতিয়ে দেখে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, ই-২০ ব্যবহারের ফলে ইঞ্জিনের মারাত্মক কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে সরকার এও স্বীকার করেছে যে, পুরনো গাড়িতে ই-২০ ব্যবহার করলে সামান্য হলেও মাইলেজ কমে যেতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে ইঞ্জিনের গ্যাসকেট বা রাবারের যন্ত্রাংশ দ্রুত ক্ষয় হতে পারে।

ই-১০ চালু হলে কী সুবিধা পাবেন গাড়ির মালিকরা?

সরকার যদি শেষ পর্যন্ত ই-১০ পেট্রোল পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নেয়, তবে পুরনো গাড়ির মালিকরা নিজেদের পছন্দমতো জ্বালানি বেছে নেওয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা পাবেন। যেহেতু ই-১০ এ ইথানলের পরিমাণ অর্ধেক থাকে এবং ইথানলের শক্তির ঘনত্ব সাধারণ পেট্রোলের চেয়ে কিছুটা কম, তাই কম ইথানলযুক্ত এই জ্বালানি ব্যবহার করলে পুরনো গাড়ির মাইলেজ সংক্রান্ত উদ্বেগ কিছুটা কমবে। পাশাপাশি, যেসব গাড়ির মালিকরা এতদিন নিজেদের ইঞ্জিন সুরক্ষিত রাখা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন, তাঁরাও বড় স্বস্তি পাবেন।

চ্যালেঞ্জ কোথায়?

এই ব্যবস্থার বাস্তবায়নে তেল বিপণন সংস্থা এবং পেট্রোল পাম্পগুলির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সাপ্লাই চেন বা সরবরাহ ব্যবস্থাপনা বজায় রাখা। বাজারে যদি একই সঙ্গে ই-১০ এবং ই-২০ উভয় প্রকার জ্বালানি চালু রাখতে হয়, তবে পাম্পগুলিতে আলাদা স্টোরেজ বা মজুত ব্যবস্থা, পরিবহন এবং পৃথক পরিকাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজন হবে। এই সমস্ত দিক খতিয়ে দেখার পরই সরকার এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *