কোথায় উধাও মেলানিয়া ট্রাম্প? হোয়াইট হাউসে মার্কিন ফার্স্ট লেডির দীর্ঘ অনুপস্থিতি ঘিরে রহস্য!

মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের দীর্ঘদিন ধরে জনসমক্ষে অনুপস্থিতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে ব্রিটিশ সংবাদপত্র ‘দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট’। শুধু তাই নয়, সংবাদপত্রটি মেলানিয়ার এই আড়ালে চলে যাওয়াকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ট উপদেষ্টা ও সহযোগী ন্যাটালি হার্পের ক্রমবর্ধমান প্রভাবশালী উপস্থিতির সঙ্গে তুলনা করেছে। এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও বিনোদন দুনিয়ায় নতুন করে আলোচনার ঝড় উঠেছে।
‘দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট’-এর প্রতিবেদনে নিউইয়র্কের সংবাদদাতা ব্রেন্ডান রাসিয়াস সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন, “মেলানিয়া কোথায়?” প্রতিবেদন অনুসারে, মেলানিয়া ট্রাম্পকে সর্বশেষ জনসমক্ষে প্রকাশ্যে দেখা গিয়েছিল গত ১৯ জুলাই, ২০২৬ তারিখে ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে। এরপর থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে তাঁকে আর দেখা যায়নি। ফার্স্ট লেডি সাধারণত রাষ্ট্রপতির পাশে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে উপস্থিত থাকলেও, তাঁর এই একটানা অনুপস্থিতি বিশেষ উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
কতবার জনসমক্ষে এলেন মেলানিয়া?
অবশ্য জনজীবন থেকে মেলানিয়ার এই অনুপস্থিতি একেবারে নতুন কোনো ঘটনা নয়। তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরু থেকে মেলানিয়া ট্রাম্প এখন পর্যন্ত মাত্র ৩৪ বার জনসমক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগদান করেছেন। অর্থাৎ তিনি গড়ে প্রতি ছয় দিনে মাত্র একবার জনসমক্ষে এসেছেন। জানা গেছে, মেলানিয়া তাঁর সময়ের বেশিরভাগ অংশ ফ্লোরিডা এবং নিউইয়র্কের মধ্যে কাটান। তাঁর ছেলে ব্যারন ট্রাম্প নিউইয়র্কের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করায়, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে তিনি নিয়মিত সেখানে থাকেন।
কে এই ন্যাটালি হার্প?
মেলানিয়ার অনুপস্থিতির মাঝেই যে নারী কর্মকর্তাটিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি নিয়মিতভাবে দেখা যাচ্ছে, তিনি হলেন ৩৫ বছর বয়সী ন্যাটালি হার্প। ট্রাম্পের অন্যতম ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা ও সহযোগী হিসেবে তিনি প্রেসিডেন্টের বহু দাপ্তরিক অনুষ্ঠান, ভ্রমণ এবং জনসমক্ষে করা কার্যকলাপে তাঁর ছায়াসঙ্গী হন। এমনকি মেলানিয়া না থাকলেও ট্রাম্পের চীন সফরে তাঁর সঙ্গে ছিলেন ন্যাটালি।
নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক ম্যাগি হাবারম্যান এবং জোনাথন সোয়ানের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, ন্যাটালি হার্প বর্তমানে রাষ্ট্রপতির সবচেয়ে প্রভাবশালী সহযোগীদের অন্যতম। তিনি ট্রাম্পের ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ অ্যাকাউন্ট পরিচালনার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ন্যাটালি হার্পকে অত্যন্ত অনুগত ও বিশ্বস্ত হিসেবে বিবেচনা করেন, যা হোয়াইট হাউসের অন্দরের ক্ষমতার সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।