মাত্র ১০ টাকা খরচেই ছুটবে ৫০ কিমি! পেটে ভাতের টান কাটিয়ে দিনমজুর যুবকের তৈরি ই-স্কুটার দেখে তাজ্জব বাজার

অভাবের সংসার আর নিত্যদিনের কঠোর সংগ্রামের মাঝেও নিজের মেধা ও অদম্য জেদকে সম্বল করে এক অবিশ্বাস্য নজির গড়লেন জলপাইগুড়ি জেলার ধূপগুড়ি ব্লকের এক তরুণ। পেটে ভাতের টান আর প্রতিকূলতাকে জয় করে সম্পূর্ণ নিজ বুদ্ধিতে ব্যাটারি চালিত ই-স্কুটার তৈরি করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন দিপু রায়। বাজারে প্রচলিত নামী-দামী ই-স্কুটারগুলিকে টেক্কা দেওয়ার মতো এই যানটি তৈরি করে ইতিমধ্যেই এলাকার মানুষের নজর কেড়েছেন তিনি।
সংগ্রামময় জীবন ও উদ্ভাবনী শক্তি
জলপাইগুড়ির ঝাড়আলতা ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের পশ্চিম ডাউকিমারী কুলতলী পার এলাকার বাসিন্দা দিপু। ছোটোবেলাই মা-কে হারানোর পর থেকেই তাঁর জীবনের লড়াই শুরু। অভাবের তাড়নায় উচ্চশিক্ষার সুযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়েই ভাই ও দিপুকে নেমে পড়তে হয় দিনমজুরের কাজে। অন্যের বাড়িতে শ্রম দিয়ে কোনোমতে দু’বেলা দু’মুঠো অন্ন জোগাড় করাই যেখানে নিত্যদিনের যুদ্ধ, ঠিক সেখানেই মনের কোণে লুকিয়ে থাকা যান্ত্রিক জিনিসপত্র নিয়ে নাড়াচাড়া করার নেশা তাঁকে থামিয়ে রাখতে পারেনি। ছোটবেলা থেকেই মেকানিক্যাল বিষয়ের প্রতি তাঁর প্রবল আগ্রহ ছিল।
অবশেষে সেই নাছোড়বান্দা জেদ আর নিজস্ব বুদ্ধির জোরেই তৈরি হয়েছে এই ই-স্কুটার। মাত্র ১০ টাকার মতো সামান্য খরচে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে সক্ষম এই অভিনব বাহনটি। নামী ব্র্যান্ডের স্কুটারগুলির আকাশছোঁয়া দামের যুগে দাঁড়িয়ে এক দিনমজুর যুবকের এমন দেশি কায়দায় তাক লাগানো আবিষ্কার এখন গোটা এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। সীমিত সম্পদের সদ্ব্যবহার করে কীভাবে অসম্ভবকে সম্ভব করা যায়, দিপু রায় সেটাই করে দেখিয়ে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন।