সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় অদৃশ্য কেউ পেছন থেকে আছড়ে ফেলল তরুণীকে! মিশরের এই ভাইরাল ভিডিও দেখে শিউরে উঠবেন

সোশ্যাল মিডিয়ার অন্তহীন দুনিয়ায় কখন কোন দৃশ্য মানুষকে শিউরে তুলবে, তা আগে থেকে অনুমান করা অসম্ভব। সম্প্রতি মিশরের একটি সিসিটিভি ফুটেজ নেটপাড়ায় ঝড়ের বেগে ছড়িয়ে পড়েছে, যা দেখে রীতিমতো মেরুদণ্ডে ঠান্ডা স্রোত বয়ে যাচ্ছে নেটিজেনদের। ভিডিওটিতে দেখা যায়, এক তরুণী অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই এক অদৃশ্য ‘কেউ’ যেন তাঁকে পেছন থেকে হঠাৎ হ্যাঁচকা টানে শূন্যে ভাসিয়ে নিচে আছড়ে ফেলে! চোখের পলকে ঘটে যাওয়া এই ভয়ঙ্কর ঘটনায় তরুণী মারাত্মকভাবে ভারসাম্য হারিয়ে সিঁড়িতে লুটিয়ে পড়েন।
এই ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই কমেন্ট বক্সে শুরু হয়ে যায় জোর বিতর্ক। নেটপাড়া মুহূর্তে দু’টি স্পষ্ট শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়ে। একদল মানুষের দাবি, এটি নিশ্চিতভাবেই কোনো অলৌকিক শক্তি বা ছায়ার কাজ। তাঁদের যুক্তি, খালি চোখেই পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে যে তরুণী নিজে থেকে পিছলে পড়েননি, বরং কোনো অদৃশ্য হাত তাঁকে সজোরে টেনে ফেলে দিয়েছে।
অন্যদিকে, যুক্তিবাদী ও বিজ্ঞানমনস্ক ব্যবহারকারীদের মতে এটি সম্পূর্ণ ভুয়ো—হতে পারে এটি কোনো পুরোনো হরর সিনেমার ক্লিপ কিংবা অত্যাধুনিক ডিজিটাল এডিটিংয়ের নিখুঁত কারসাজি। অতীতে ‘প্যারানরমাল অ্যাক্টিভিটি’-র মতো সিনেমা থেকেও এমন বহু মনগড়া দৃশ্য ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়েছিল বলে তাঁরা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। যদিও এই মিশরীয় ভিডিওটির সত্যতা এখনও পর্যন্ত স্বাধীনভাবে কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ ধরনের রহস্যজনক ভাইরাল ক্লিপ দেখে সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়াও হয়েছে বেশ বৈচিত্র্যময়। কেউ আতঙ্কে লিখেছেন, “এটা কি সত্যিই কোনো ভূত?”, আবার কেউ মন্তব্য করেছেন, “রাতে একা দেখলে চোখের ঘুম উড়ে যাবে!” কেউ কেউ আবার রসিকতা করে সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় সবাইকে সাবধানে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্যামেরা অ্যাঙ্গেল, অপটিক্যাল ইলিউশন কিংবা উন্নত এডিটিংয়ের চমৎকার খেলাই এই ভিডিওর আসল রহস্য হতে পারে।
প্রকৃতপক্ষে, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভয়ের উপাদান ও রহস্য সবসময়ই খুব দ্রুত মানুষের নজর কাড়ে। মানুষের ভয়, শিউরে ওঠা এবং কৌতূহলের মতো আবেগগুলোকে সামাজিক মাধ্যমের অ্যালগরিদমগুলো দ্রুত লুফে নেয়। ফলস্বরূপ, কোনো রকম সত্যতা যাচাই না করেই অসম্পূর্ণ বা বিভ্রান্তিকর তথ্য পৌঁছে যায় কোটিরও বেশি মানুষের কাছে। এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দেয় যে, সিসিটিভি ফুটেজ যতই বাস্তব বা ভীতিপ্রদ মনে হোক না কেন, আধুনিক এডিটিংয়ের যুগে অন্ধভাবে সবকিছু বিশ্বাস করার আগে দুবার ভাবা অত্যন্ত জরুরি।