বনগাঁয় নামী হোটেল-রেস্তোরাঁয় বড় হানা! বাসি মাংস আর মেয়াদোত্তীর্ণ কেমিক্যালে চলছে রমরমা কারবার

ভোজনরসিকদের স্বাস্থ্যের সঙ্গে আপস করার অভিযোগ উঠল উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁর একাধিক নামী হোটেল ও রেস্তোরাঁর বিরুদ্ধে। বুধবার জেলা খাদ্য সুরক্ষা দফতর, ডিইবি এবং বনগাঁ পৌরসভার যৌথ উদ্যোগে শহরের একাধিক হেভিওয়েট রেস্তোরাঁ ও হোটেলে আকস্মিক হানা দেওয়া হয়। খাবারের গুণগত মান যাচাই করতে গিয়ে আধিকারিকরা যা দেখলেন, তাতে চক্ষু চড়কগাছ হওয়ার জোগাড়। রান্নাঘরের অন্দরের ছবি দেখে রীতিমতো আঁতকে ওঠেন তাঁরা।

এদিন তল্লাশি চালানোর সময় প্রথমে রান্নাঘরে প্রবেশ করেন আধিকারিকরা। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, গ্রাহকদের পরিবেশন করার জন্য রাখা পানীয় জলের বোতল অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ড্রেনের পাশেই ফেলে রাখা হয়েছে। তল্লাশি এগোতেই একে একে বেরিয়ে আসতে থাকে নানা অসঙ্গতি। কোথাও উদ্ধার হয় বাসি মাংস, তো কোথাও আবার রান্নার উপকরণে ভেজাল এবং ব্যবহার করা হচ্ছে মেয়াদোত্তীর্ণ কেমিক্যাল। খাবারের মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় বিভিন্ন পদ ও উপাদানের নমুনা সংগ্রহ করেন আধিকারিকরা। তাৎক্ষণিকভাবে অস্বাস্থ্যকর ও পচা খাবারগুলি ফেলে দেওয়ার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয় হোটেল কর্তৃপক্ষকে।

তদন্ত চলাকালীন এক অদ্ভুত পরিস্থিতি তৈরি হয়। এক ক্রেতা রেস্তোরাঁয় এসে একটি মাটন বিরিয়ানির অর্ডার দেন। কিন্তু রান্নাঘরের হাল দেখে আধিকারিকরা তৎক্ষণাৎ ওই ক্রেতাকে খাবারটি না নেওয়ার অনুরোধ করেন। নিরাশ হয়ে ফিরে যাওয়ার সময় ওই ক্রেতা জানান, অফিসাররা নিষেধ করায় তিনি আর বিরিয়ানি কেনেননি। তবে এর আগেও তিনি ওই দোকান থেকে খাবার কিনে নিয়ে গেছেন বলে জানান, যা তার স্বাস্থ্য নিয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছে।

শহরের নামী হোটেলগুলিতে এভাবে মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার ঘটনায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সচেতন নাগরিকরা। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় এই ধরনের নজরদারি ও কড়া পদক্ষেপ আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *