ভিনগ্রহের জীব খুঁজতে রকেটের দরকার নেই! সমুদ্রের অতলে লুকিয়ে থাকা এই অদ্ভুত প্রাণীদের দেখলে চোখ কপালে উঠবে

সমুদ্রের কয়েকশো মিটার নিচে ঘুটঘুটে অন্ধকারের মধ্যে ধীরে ধীরে ভেসে চলা এমন এক প্রাণী, যার মুখ ও শরীর দেখে প্রথম দর্শনে তাকে পৃথিবীর জীব বলে বিশ্বাস করতেই কষ্ট হবে। আবার একটি ক্ষুদ্র কৃমি নিজের নিখুঁত বাসা বানিয়েছে এমন এক প্রাণীর শরীরের ভেতরে, যার কঙ্কাল দেখতে প্রায় কোনো কাচের তৈরি রাজপ্রাসাদের মতো!
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অগভীর সমুদ্রেই সম্প্রতি সন্ধান মিলেছে তিন সেন্টিমিটারেরও কম দৈর্ঘ্যের এক রঙিন কৃমির, যার উজ্জ্বল শরীর হয়তো শিকারিদের জন্য এক মারাত্মক বিপদের সংকেত। এগুলি কোনো কল্পবিজ্ঞানের সিনেমার কাল্পনিক ভিনদেশি জীব নয়। এই সমস্ত অদ্ভুত ও অবিশ্বাস্য প্রাণীগুলির বাস আমাদের এই চেনা পৃথিবীরই গভীর সমুদ্রে।
১ বছরে ১১২১টি নতুন প্রজাতি আবিষ্কার
আর এমন একটি বা দুটি নয়, মাত্র ১ বছরের ব্যবধানে বিজ্ঞানীরা একসঙ্গে নথিভুক্ত করেছেন ১১২১টি পূর্বে সম্পূর্ণ অজানা সামুদ্রিক প্রজাতি। ‘ওশান সেনসাস’ (Ocean Census) নামক একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা এই বিশাল গণনার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ওশান সেনসাসের তৃতীয় বছরের কাজের অংশ হিসেবে ২০২৫ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে এই রহস্যময় প্রাণীগুলির সন্ধান ও সনাক্তকরণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
মানুষ আজ চাঁদে পা রেখেছে, মঙ্গলগ্রহে সফলভাবে রোবট পাঠিয়েছে। অথচ নিজের পৃথিবীর সমুদ্রের গভীরে ঠিক কত ধরনের জীবজন্তু বা প্রাণী রয়েছে, সেই সঠিক হিসাব আজও মানুষের অজানা। ওশান সেনসাসের মতে, পৃথিবীর সমুদ্রের প্রাণি প্রজাতির এক বিশাল অংশ এখনও বিজ্ঞানের ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে।
সমুদ্রের অদেখা জগতের মানচিত্র তৈরি
এই অজানা ও রহস্যময় পৃথিবীর নিখুঁত মানচিত্র তৈরির জন্যই দিনরাত কাজ করে চলেছেন গবেষকরা। গত ১ বছরে ১৩টি রোমাঞ্চকর অভিযান এবং ৯টি বিশেষ প্রজাতি আবিষ্কার সংক্রান্ত কর্মশালার মাধ্যমে ১১২১টি নতুন সামুদ্রিক প্রজাতি নথিভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে আগের বছরের তুলনায় সামুদ্রিক প্রজাতি সনাক্তকরণের এই বার্ষিক হার প্রায় ৫৪ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
এই অভিযানে কোথাও উদ্ধার হয়েছে নতুন প্রজাতির প্রবাল, কোথাও বা অদ্ভুত দেখতে কাঁকড়া, চিংড়ি, সি আর্চিন কিংবা অ্যানিমোন। সমুদ্রের অগভীর উপকূল থেকে শুরু করে প্রায় ৬ হাজার ৫৭৫ মিটার পর্যন্ত অতল গভীরতা থেকেও সংগৃহীত হয়েছে নানা নমুনা। তবে এর মধ্যে বেশ কিছু সামুদ্রিক প্রাণী তাদের অদ্ভুত গঠন ও বৈশিষ্ট্যের জন্য বিজ্ঞানীদের আলাদাভাবেই নজর কেড়েছে।
মঙ্গলগ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব আছে কি না, তার উত্তর আজও মানুষের অজানা। কিন্তু তার বহু আগেই আমাদের পায়ের নিচের এই নীল পৃথিবী বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, ভিনগ্রহের জীব খুঁজতে দূর মহাশূন্যে পাড়ি দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। নিজের এই পৃথিবীর বুকেই এখনও এমন হাজার হাজার অদ্ভুত ও রহস্যময় প্রাণী লুকিয়ে রয়েছে, যাদের সঙ্গে মানুষের সামান্যতম পরিচয়ও হয়নি।