‘অন্ধভক্ত’ তকমা নিয়ে এবার গর্জে উঠলেন কঙ্গনা! ইশা কোপ্পিকরের মন্তব্যে সমর্থন জানিয়ে কী বললেন অভিনেত্রী?

বলিউডে ইশা কোপ্পিকরের ‘অন্ধভক্তি’ বা ‘অন্ধভক্ত’ সংক্রান্ত মন্তব্য ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় যে শোরগোল শুরু হয়েছিল, এবার তাতে খোলাখুলি সমর্থন জানালেন অভিনেত্রী তথা সংসদ সদস্য কঙ্গনা রানৌত। ইশার সেই বক্তব্যের রেশ ধরেই কঙ্গনা নিজের জীবনের বেশ কিছু অজানা অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছেন, যা নিয়ে বর্তমানে নেটদুনিয়ায় শুরু হয়েছে তুমুল চর্চা।
ইশার ‘অন্ধভক্ত’ বিতর্ক ও ব্যাখ্যা
সম্প্রতি অভিনেত্রী ইশা কোপ্পিকরের একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছিল, যেখানে তিনি অত্যন্ত জোরালোভাবে নিজেকে একজন ‘ভক্ত’ বা ‘অন্ধভক্ত’ বলে পরিচয় দিয়েছিলেন। ইশার বক্তব্য ছিল, দেশকে ভালোবাসা এবং তার অগ্রগতি কামনা করা যদি ভক্তি হয়, তবে তিনি তাতে গর্বিত। তবে তাঁর এই ভক্তি কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতি নয়, বরং সরাসরি দেশের প্রতি। পাশাপাশি তিনি এও স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে, প্রয়োজনে তিনি সরকারের সমালোচনা বা নীতি নিয়ে দ্বিমত পোষণ করতে পারেন, কিন্তু দেশের প্রতি ভালোবাসায় বিন্দুমাত্র ঘাটতি পড়বে না। দেশপ্রেম মানে শুধুই মুখে বলা নয়, বরং দেশের জন্য কিছু করা—এই বার্তাই দিয়েছিলেন ইশা।
কঙ্গনার বিস্ফোরক সমর্থন ও জীবনের গল্প
ইশার এই ভিডিওটি নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে শেয়ার করে কঙ্গনা রানৌত লিখেছেন, “দারুণভাবে বুঝিয়ে বলেছেন! আর যদি আমার কথা বলেন…” এরপর নিজের জীবনের কয়েকটি দৃষ্টান্ত টেনে এনে কঙ্গনা জানান কেন তিনি নিজেকে একজন ‘ভক্ত’ হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করেন।
কঙ্গনা জানান, হাইস্কুলে পড়ার সময় অ্যাসেম্বলিতে যে শিক্ষক শিশুদের মাথায় লাঠি দিয়ে মারতেন, তিনি তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলেন। শুধু তাই নয়, ২৬/১১-র সন্ত্রাসবাদী হামলা এবং নির্ভয়া কাণ্ডের নির্মমতার বিরুদ্ধেও তিনি রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনের কথা বলতে গিয়ে কঙ্গনা উল্লেখ করেন যে, তিনি কখনো নিজের সীমাবদ্ধতার জন্য বাবা-মাকে দোষারোপ করেননি, বরং নিজের অর্জিত সাফল্য দিয়ে গোটা পরিবারকে সমাজের একটা ভালো জায়গায় নিয়ে এসেছেন।
পরিশেষে কঙ্গনা লিখেছেন, “আমি যাঁর সঙ্গেই দেখা করি, প্রায় সকলেরই ভক্ত হয়ে যাই; আমি আমার দেশকে ভালোবাসি, আমার দেশের মানুষকে ভালোবাসি এবং নিজের জীবনকে মনপ্রাণ দিয়ে ভালোবাসি।” রাজনৈতিক গণ্ডি পেরিয়ে দুই অভিনেত্রীর এই দেশপ্রেমমূলক মন্তব্য এখন নেটদুনিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।