সরষে-দই তো অনেক খেলেন! এবার কুমড়ো ডগা দিয়ে বানান এই স্পেশ্যাল আচারি ইলিশ, স্বাদ মুখে লেগে থাকবে

বাঙালি মানেই ইলিশের প্রতি এক আলাদা দুর্বলতা। সর্ষে ইলিশ, দই ইলিশ কিংবা ভাপা ইলিশ তো বহুবার খেয়েছেন, তবে এবার বর্ষার দিনে একটু অন্য স্বাদের কিছু ট্রাই করতে চাইলে বানিয়ে ফেলতে পারেন এই অভিনব পদ। আচারি মশলা, কচি কুমড়ো ডগা আর ইলিশের জাদুকরি কম্বিনেশনে তৈরি এই পদটি টক-ঝাল-মিষ্টির এক পারফেক্ট ফিউশন। কুমড়ো ডগা ইলিশের অতিরিক্ত তেল শুষে নিয়ে দারুণ স্বাদ তৈরি করে, আর আচারি মশলার গন্ধে পুরো বাড়ি ম ম করবে। মাত্র ৩০ মিনিটেই তৈরি করে ফেলা যায় এই সুস্বাদু পদটি। দেখে নিন ঝটপট রেসিপি।
প্রয়োজনীয় উপকরণ (৪ জনের জন্য)
মাছের জন্য:
ইলিশ মাছ – ৬ পিস
নুন – আধ চা চামচ
হলুদ গুঁড়ো – আধ চা চামচ
সরষের তেল – ৪ টেবিল চামচ
আচারি মশলার জন্য:
পাঁচফোড়ন – ১ চা চামচ
মেথি – ১/৪ চা চামচ
কালো জিরে – ১/৪ চা চামচ
শুকনো লঙ্কা – ২টি
আদা বাটা – ১ টেবিল চামচ
রসুন বাটা – ১ চা চামচ
টমেটো পিউরি – ২ টেবিল চামচ
ধনে গুঁড়ো – ১ চা চামচ
জিরে গুঁড়ো – ১ চা চামচ
লঙ্কা গুঁড়ো – আধ চা চামচ
চিনি – আধ চা চামচ
ভিনিগার – ১ চা চামচ
নুন – স্বাদমতো
স্পেশাল উপকরণ:
কচি কুমড়ো ডগা – ১ কাপ
চেরা কাঁচা লঙ্কা – ৩টি
ধনেপাতা কুচি – সাজানোর জন্য
রান্নার সহজ প্রণালী
১. মাছ ভাজা:
প্রথমে ইলিশ মাছে নুন ও হলুদ ভালো করে মাখিয়ে ১০ মিনিট রেখে দিন। কড়াইতে সরষের তেল গরম করে মাছগুলি হালকা করে ভেজে তুলে নিন। মনে রাখবেন, ইলিশ মাছ খুব বেশি ভাজলে শক্ত হয়ে যায়, তাই হালকা ভাজাই শ্রেয়।
২. আচারি মশলা কষানো:
ওই তেলেই পাঁচফোড়ন, মেথি, কালো জিরে ও শুকনো লঙ্কা ফোড়ন দিন। সুন্দর গন্ধ বেরোলে আদা ও রসুন বাটা দিয়ে কাঁচা গন্ধ যাওয়া পর্যন্ত কষতে থাকুন। এরপর টমেটো পিউরি এবং ধনে, জিরে ও লঙ্কা গুঁড়ো দিয়ে মশলা থেকে তেল ছাড়ানো পর্যন্ত ভালো করে কষান।
৩. কুমড়ো ডগা আর মাছের মেলবন্ধন:
মসলা কষা হলে এবার কচি কুমড়ো ডগা দিয়ে ২ মিনিট ভাজুন। এরপর সামান্য নুন ও অল্প জল দিয়ে ৩ মিনিটের জন্য ঢাকা দিয়ে রাখুন। কুমড়ো ডগা ৭০ শতাংশ সেদ্ধ হয়ে এলে ভেজে রাখা ইলিশ মাছ, চেরা কাঁচা লঙ্কা, চিনি ও ভিনিগার দিয়ে দিন।
৪. ফিনিশিং:
ঢাকা দিয়ে গ্যাসের আঁচ একেবারে কমিয়ে ৫ মিনিট দমে রাখুন। নামানোর আগে উপর থেকে কাঁচা সরষের তেল ও ধনেপাতা কুচি ছড়িয়ে নামিয়ে নিন।
পারফেক্ট রান্নার ৩টি জরুরি টিপস:
কুমড়ো ডগা: রান্নার জন্য সবসময় একদম কচি ডগা বেছে নেবেন। ডাঁটা শক্ত হলে রান্নার স্বাদ নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
ভিনিগার: রান্নার শেষ পর্যায়ে অর্থাৎ নামানোর ঠিক আগে ভিনিগার ব্যবহার করবেন, এতে টক ভাবটা তাজা থাকে।
তেল: এই পদে খাঁটি সরষের তেল ব্যবহার না করলে আসল আচারি ফ্লেভারটি পাওয়া যাবে না।
গরম ধোঁয়া ওঠা ভাতের সঙ্গে পাতে একটু পাতিলেবু আর এই আচারি ইলিশ থাকলে আর কিচ্ছু চাই না! চিরচেনা ইলিশকে একদম নতুনভাবে পেতে আজই ট্রাই করুন এই রেসিপি। কুমড়ো ডগা না পেলে লাউ ডগা দিয়েও এটি দারুণ সুস্বাদু হয়।