দিল্লিতে ব্রিকস বৈঠকে ভারতের বড় ডাক! পরিবেশ রক্ষায় কোন নতুন কৌশলে জোর দেওয়া হলো?

সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে পরিবেশ রক্ষার জন্য আরও শক্তিশালী ও মানুষকেন্দ্রিক পদক্ষেপের ডাক দিল ভারত। সম্প্রতি নতুন দিল্লিতে আয়োজিত হলো দ্বাদশ ব্রিকস পরিবেশমন্ত্রীদের বৈঠক। ভারতের ২০২৬ সালের ব্রিকস সভাপতিত্বের অধীনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে জলবায়ু পরিবর্তন, বন ব্যবস্থাপনা, জীববৈচিত্র্যের সংরক্ষণ এবং স্থিতিশীল উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বৈঠক শেষে সর্বসম্মতিক্রমে একটি যৌথ বিবৃতি গ্রহণ করা হয়েছে এবং চারটি বিশেষ গবেষণাপত্র বা ফলাফল নথি প্রকাশ করা হয়েছে।
ভারতের ভাবনা ও পরিবেশ সুরক্ষায় জোর:
কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব ব্রিকস সদস্য দেশগুলোর মন্ত্রী ও প্রতিনিধিদের উদ্দেশে বলেন, পরিবেশ সংক্রান্ত সহযোগিতার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত স্থিতিশীলতাকে কেন্দ্রে রেখে প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং উদ্ভাবন তৈরি করা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দেখানো পথ অনুসরণ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোর সমস্যাকে আলোচনার কেন্দ্রে রাখার ওপর বিশেষ জোর দেন তিনি। তাঁর মতে, ব্রিকস-এর মূল মন্ত্র হওয়া উচিত সাধারণ মানুষকে প্রাধান্য দিয়ে ‘স্থিতিশীলতা ও সহযোগিতার জন্য প্রতিরোধ এবং উদ্ভাবন তৈরি করা’।
বৈশ্বিক পরিবেশগত চ্যালেঞ্জগুলোর কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলির জন্য দাবানল, দূষণ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি আরও বেশি। তাই দাবানল প্রতিরোধ, প্রস্তুতি, আগাম সতর্কতা এবং আগুন নেভানোর পর পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে ব্রিকস দেশগুলির মধ্যে আরও শক্তিশালী পারস্পরিক সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে। একইসঙ্গে জলবায়ু অর্থায়ন এবং স্থানীয় সম্প্রদায়কে শক্তিশালী করার ওপরও তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন।
বিশেষ উদ্যোগ ও যৌথ সিদ্ধান্ত:
পরিবেশ পুনরুদ্ধার এবং মানব উন্নয়ন যে একসঙ্গে চলতে পারে, তার উদাহরণ হিসেবে ‘মিশন লাইফ’ (Mission LiFE) এবং ‘এক পেড় মা কে নাম’ (Ek Ped Maa Ke Naam)-এর মতো জনমুখী উদ্যোগগুলির কথা তুলে ধরেন মন্ত্রী। আধুনিক বিজ্ঞানের সঙ্গে পরম্পরাগত জ্ঞানের মেলবন্ধন ঘটিয়ে পরিবেশগত সমস্যার টেকসই সমাধান খোঁজার আহ্বান জানানো হয়।
বৈঠকের শেষে গৃহীত যৌথ বিবৃতিতে যে চারটি ফলাফল নথি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে:
-
পরিবেশবান্ধব জীবনযাত্রা নিয়ে গবেষণা ও জ্ঞান আদান-প্রদানের জন্য ব্রিকস প্রতিষ্ঠানগুলির একটি নেটওয়ার্ক গঠন।
-
উন্নত বন ব্যবস্থাপনার জন্য সুনির্দিষ্ট নীতি প্রণয়ন।
-
দাবানল মোকাবিলায় প্রস্তুতি ও প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে অভিন্ন বোঝাপড়া তৈরি।
-
ঐতিহ্যগত জ্ঞান ব্যবহার করে মানুষকেন্দ্রিক অভিযোজনের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার নীতি তৈরি।
দু’দিনের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে জলবায়ু পরিবর্তন এবং সবুজায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি ভারতের উদ্যোগে একটি ডিজিটাল ও ইন্টারেক্টিভ ‘মিশন লাইফ’ প্যাভিলিয়ন স্থাপন করা হয়, যা উপস্থিত প্রতিনিধিদের নজর কেড়েছে।