এআই থেকে অলিম্পিক—সবই কি এক রাজ্যে যাবে? গেরুয়া শিবির ছাড়ার পরই মোদি-শাহের গুজরাত মডেলকে তুলোধনা আন্নামালাইয়ের

একসময়ে যাঁকে সামনে রেখেই দক্ষিণে পদ্ম ফোটানোর স্বপ্ন দেখেছিল ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP), সেই দক্ষিণের দাপুটে নেতা কে. আন্নামালাই দল ছাড়ার পরেই একেবারে আক্রমণাত্মক মেজাজে ধরা দিলেন। আইপিএলের চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতে আসা এই নেতা সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের গুজরাত মডেল এবং দিল্লির কেন্দ্রীয় নীতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন।

সম্প্রতি একটি সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের আলোচনাচক্রে ‘উই দ্য লিডার্স মুভমেন্ট’-এর প্রতিষ্ঠাতা আন্নামালাই দাবি করেছেন যে, দেশের সমস্ত বড় মাপের বিনিয়োগ, প্রযুক্তি সংস্থা এবং বিশ্বমানের ইভেন্টগুলো বেছে বেছে একটি নির্দিষ্ট রাজ্যেই নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তাঁর প্রশ্ন, এআই (AI) কোম্পানি থেকে শুরু করে সেমিকন্ডাক্টর প্ল্যান্ট, কিংবা ২০৩০ সালের কমনওয়েলথ গেমস থেকে শুরু করে ২০৩৬ সালের অলিম্পিক—সবকিছুই কেন শুধু গুজরাতের আহমেদাবাদ বা সংশ্লিষ্ট অঞ্চলেই হবে? সমস্ত রাজ্যের সমান উন্নতির কথা বলে কেন কেবল একটি রাজ্যকে বাড়তি সুবিধা দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে তিনি তীব্র প্রশ্ন তুলেছেন।

শুধু উন্নয়ন বা বিনিয়োগের বন্টন নিয়েই নয়, বিজেপির দলীয় কাঠামোর অন্দরে চলা একরোখা সিদ্ধান্ত নিয়েও খোঁচা দিয়েছেন এই প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি। তাঁর স্পষ্ট কথা, বর্তমানে বিজেপির সমস্ত সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে দিল্লিকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। আঞ্চলিক স্তরের নেতাদের গুরুত্ব না দিয়ে হাইকম্যান্ড থেকে সবকিছু চাপিয়ে দেওয়ার এই মানসিকতার পরিবর্তন হওয়া দরকার বলে মত প্রকাশ করেছেন তিনি। রাজ্য স্তরের নেতাদের হাতে আরও বেশি ক্ষমতা ও স্বাধীনতা দেওয়া উচিত, যাতে স্থানীয় পরিস্থিতি বিচার করে তাঁরা নিজেদের মতো সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

রাজনৈতিক মহলের মতে, দক্ষিণের রাজনীতিতে নিজের নতুন রাজনৈতিক পথ বেছে নেওয়ার ঠিক প্রাক্কালে আন্নামালাইয়ের এই মন্তব্য গেরুয়া শিবিরের অন্দরে বড় ধরনের অস্বস্তি তৈরি করেছে। অতীতে মহারাষ্ট্রের সঙ্গে বেদান্ত-ফক্সকন সেমিকন্ডাক্টর প্রকল্প বা টাটা এয়ারক্রাফ্ট প্রকল্প নিয়ে রাজনৈতিক তরজার প্রসঙ্গও নতুন করে সামনে চলে এসেছে। সব মিলিয়ে, মোদি-শাহের নীতি এবং দলীয় কেন্দ্রীয়করণের বিরুদ্ধে একসময়ের ঘরের লোকের এই মুখ খুলতে শুরু করায় জাতীয় রাজনীতিতে নতুন জল্পনার সৃষ্টি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *