নতুন মুখের ভিড়ে হেভিওয়েটদের কামব্যাক! ২০২৭ ভোটের আগে বড় রদবদল আনলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি

সামনেই একাধিক রাজ্যে গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে দলের সাংগঠনিক কাঠামোয় বড়সড় রদবদল আনলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। নতুন এবং পুরনোর নিখুঁত ভারসাম্যে সাজানো হয়েছে বিজেপির নতুন জাতীয় টিম। প্রবীণদের অভিজ্ঞতা ও নতুন প্রজন্মের তরুণ শক্তিকে একসঙ্গে পাথেয় করে আসন্ন রাজনৈতিক লড়াইয়ের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে গেরুয়া শিবির। এই নতুন কমিটিতে একাধিক হেভিওয়েট নেতার কামব্যাক যেমন নজর কেড়েছে, তেমনই বেশ কিছু পদে এসেছে বড় ধরনের চমক।

স্মৃতি ইরানির কামব্যাক ও হাই-প্রোফাইল নিয়োগ

২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশের অমেঠিতে হারের পর দীর্ঘ দু’বছরেরও বেশি সময় ধরে সক্রিয় জাতীয় রাজনীতি বা দলীয় কোনও বড় পদে দেখা যায়নি স্মৃতি ইরানিকে। অবশেষে সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে তাঁকে জাতীয় সাধারণ সম্পাদকের (National General Secretary) গুরুদায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে তাঁর প্রভাব এবং লাগাতার প্রচারের দক্ষতাকে কাজে লাগাতেই এই সিদ্ধান্ত।

পাশাপাশি, দলের অন্যতম দক্ষ ও চাণক্য হিসেবে পরিচিত রাম মাধব জাতীয় সহ-সভাপতি (National Vice President) পদে ফিরেছেন। এর আগে উত্তর-পূর্ব ভারত এবং জম্মু ও কাশ্মীরে দলের বিস্তার ঘটাতে তাঁর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এছাড়া দলের অভিজ্ঞ মুখ বসুন্ধরা রাজে সিন্ধিয়া সহ-সভাপতি পদে বহাল রয়েছেন এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়েলকে দলের জাতীয় কোষাধ্যক্ষ (National Treasurer) করা হয়েছে।

আইটি সেলে বড় পরিবর্তন

দলের এই রদবদলে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা হলো আইটি সেল ও সোশ্যাল মিডিয়া সেলে বড় পরিবর্তন। এতদিন এই দপ্তরের দায়িত্বে থাকা অমিত মালব্যকে সরিয়ে ছত্তিশগড়ের দীপক ম্হাসকে নতুন সোশ্যাল মিডিয়া কনভেনর বা প্রধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, মিডিয়া ইন-চার্জ পদে নিজের দায়িত্বেই বহাল থাকছেন অনিল বালুনি।

নতুন টিমে কাদের জায়গা?

নতুন এই কমিটিতে অভিজ্ঞতার পাশাপাশি তরুণ প্রজন্ম এবং নারী শক্তির ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।

  • জাতীয় সাধারণ সম্পাদক: বিনোদ তাওড়ে, সুনীল বনসল, বিপ্লব কুমার দেব, স্মৃতি ইরানি, সতীশ পুনিয়া, গজেন্দ্র প্যাটেল, হরিশ দ্বিবেদী এবং সঞ্জয় ভাটিয়া।

  • জাতীয় সহ-সভাপতি: বসুন্ধরা রাজে সিন্ধিয়া, রাম মাধব, বৈজয়ন্ত জয় পান্ডা, ডি পুরন্দেশ্বরী, রেখা বর্মা, ভারতী পাওয়ার এবং মনপ্রীত সিং বাদল সহ মোট ১৩ জন।

  • অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদ: যুব মোর্চার নতুন জাতীয় সভাপতি করা হয়েছে হেমং জোশিকে। এছাড়া দলের জাতীয় সম্পাদক হিসেবে কে কবিতা পাটিদার, অনিল অ্যান্টনি, মনোজ টিগ্গার পাশাপাশি সম্প্রতি আম আদমি পার্টি (আপ) ছেড়ে আসা সন্দীপ পাঠককেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

২০২৭-এর নির্বাচনের আগে মাস্টারস্ট্রোক?

চলती বছরে ৪৬ বছর বয়সে বিজেপির সর্বকনিষ্ঠ সর্বভারতীয় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই নিতিন নবীনের এই প্রথম বড় সাংগঠনিক তালিকা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। কারণ, ২০২৭ সালে উত্তরপ্রদেশ, গুজরাট, পাঞ্জাব, উত্তরাখণ্ডসহ একাধিক রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ছাত্র আন্দোলনের জেরে সরকারের ওপর তৈরি হওয়া চাপ কাটাতে এই নতুন টিম বিজেপির জন্য কতটা ফলপ্রসূ হয়, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *