মাত্র ২৩ সেকেন্ডেই গোল! কার্ডিফে পেপ গার্দিওলার শিষ্যদের নিয়ে ছেলেখেলা করল আর্টেটার দল

মিলেনিয়াম স্টেডিয়ামে খেলা শুরুর বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই সব হিসাব-নিকাশ ওলটপালট হয়ে গেল। কার্ডিফের মাঠে নতুন যুগের সূচনা করতে চেয়েছিল ম্যাঞ্চেস্টার সিটি। কিন্তু আর্সেনালের তরুণ তুর্কি আর ট্যাকটিকাল মাস্টারমাইন্ড মাইকেল আর্টেটার সামনে টিকতেই পারল না তারা। কমিউনিটি শিল্ডের এই মহারণে সিটিকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে দুর্দান্ত ট্রফি জয় দিয়ে নতুন মরসুমের খাতা খুলল গানার্সরা।
ম্যাচ শুরু হতে না হতেই চমক দেখায় আর্সেনাল। কিক-অফের পর গ্যাব্রিয়েলের থেকে বল গড়িয়ে যায় ওডেগার্ডের কাছে। বাঁ-দিক দিয়ে দুর্দান্ত গতিতে এগিয়ে যান কালাফিওরি। ক্রিস্টোস সোলিসের পাস বক্সের ভেতরে থাকা নোনি মাদুয়েকের মাথায় পৌঁছয়, সেখান থেকে বেন হোয়াইট হয়ে বল যায় লুইস স্কেলির পায়ে। স্কেলির নিখুঁত পাস থেকে বল পেয়ে সিটির গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি ডোনারুমার পাশ দিয়ে বাঁ পায়ের দুরন্ত শটে জালে বল জড়াতে কালাফিওরির সময় লাগে মাত্র ২৩ সেকেন্ড। কার্ডিফে সিটির জন্য এটাই ছিল প্রথম ও সবচেয়ে বড় ধাক্কা।
মাঝমাঠে ব্রুনো গিমারায়েসের দ্রুত সংযোজন আর্সেনালের খেলায় এনে দিয়েছে দারুণ ভারসাম্য ও স্থিতিশীলতা। ওডেগার্ড এবং স্কেলির সঙ্গে তাঁর নিখুঁত বোঝাপড়া ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি আর্সেনালের হাতে তুলে দিয়েছিল। খেলার ঠিক ২৮ মিনিটের মাথায় সিটির ডিফেন্সকে ফের কাঁপিয়ে দেন কাই হাভেরটজ। ডানদিক থেকে ওডেগার্ডের বাড়ানো ক্রস সোলিস হেডার করে হাভেরটজের পথে বাড়িয়ে দেন, আর সেখান থেকে হেডারেই দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি।
প্রথমার্ধে দুই গোলে এগিয়ে থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণের ধার একটুও কমায়নি আর্টেটার দল। ৪৮ মিনিটে মার্টিন অডেগার্ড দলের পক্ষে তৃতীয় গোলটি করে সিটির কফিনে শেষ পেরেকটি পুঁতে দেন। পুরো ম্যাচে পেপ গার্দিওলার দলের পরিকল্পনা পুরোপুরি ধূলিসাৎ করে দিয়ে ছড়ি ঘুরিয়েছে আর্সেনাল। দ্বিতীয়ার্ধে একে একে মাঠে নামেন ডেকলান রাইস, বুকায়ো সাকা, ভিক্টর গিওকারেস এবং মার্তিন সুবিমেন্দিরা।
মাঠে আর্সেনালের এই আগ্রাসী ও গোছানো রূপ দেখে ফুটবল বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আসন্ন প্রিমিয়ার লিগে গানার্সরা আরও অনেক বেশি ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে চলেছে। অন্যদিকে, মাঝমাঠে রড্রির অনুপস্থিতি এবং নতুন খেলোয়াড়দের মানিয়ে নেওয়ার চ্যালেঞ্জ নিয়ে সিটি শিবিরের সামনের পথটা যে বেশ কঠিন হতে চলেছে, তা এই ম্যাচেই স্পষ্ট হয়ে গেল।