আপনার হাঁটার গতিই ঠিক করে দেবে আপনি কত দিন বাঁচবেন! বিজ্ঞানীদের এই চাঞ্চল্যকর গবেষণা শুনলে চমকে উঠবেন।

সকালে বা বিকেলে নিয়ম করে হাঁটার অভ্যাস অনেকেরই রয়েছে। কিন্তু আপনি কীভাবে হাঁটেন, অর্থাৎ আপনার হাঁটার গতি বা পেস (Walking Pace) যে আপনার সামগ্রিক স্বাস্থ্য এবং আয়ু সম্পর্কে আগাম বার্তা দিতে পারে, এমনটাই দাবি করছেন একদল আন্তর্জাতিক গবেষক। চিকিৎসাবিজ্ঞান ও দীর্ঘায়ু (Longevity) নিয়ে চলা সাম্প্রতিক বেশ কিছু গবেষণায় উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। বিজ্ঞানীদের মতে, মানুষের হাঁটার গতির সঙ্গে তার শারীরিক সক্ষমতা এবং আয়ুর দীর্ঘমেয়াদী যোগসূত্র রয়েছে।
ডেইলি হান্টের পাঠকদের জন্য রইল হাঁটার গতির সঙ্গে আয়ু জড়িয়ে থাকার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার বিস্তারিত বিবরণ।
১. কার্ডিওভাসকুলার স্বাস্থ্যের প্রকৃত আয়না
নিয়মিত বা স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা দ্রুত গতিতে হাঁটার অভ্যাস হৃদপিণ্ডের কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে। গবেষকদের মতে, যারা স্বাভাবিকভাবে একটু দ্রুত পায়ে হাঁটতে পারেন, তাদের কার্ডিওভাসকুলার সিস্টেম বা হৃদযন্ত্র অনেক বেশি শক্তিশালী থাকে। এটি ভবিষ্যতে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের মতো প্রাণঘাতী রোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে দেয়, যা দীর্ঘায়ু নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা পালন করে।
২. শারীরিক শক্তি ও পেশির বয়স নির্ধারণ
হাঁটার গতি মূলত মানুষের পেশি এবং স্নায়ুতন্ত্রের সামগ্রিক ফিটনেস প্রকাশ করে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পেশির শক্তি কমতে শুরু করা স্বাভাবিক। কিন্তু যারা বার্ধক্যেও সাবলীল ও চটজলদি পায়ে হাঁটতে পারেন, তাদের শারীরিক বয়স ও জৈবিক ক্ষমতা অনেক তরুণদের মতোই সক্রিয় থাকে। এটি দীর্ঘ ও সুস্থ জীবনযাপনের স্পষ্ট লক্ষণ।
৩. মস্তিষ্ক ও স্নায়ুর সুস্বাস্থ্য
সাম্প্রতিক সমীক্ষায় দেখা গেছে, হাঁটার গতির সঙ্গে মস্তিষ্কের কগনিটিভ ফাংশন বা চিন্তাশক্তির গভীর সম্পর্ক রয়েছে। যারা নিয়মিত গতি বজায় রেখে হাঁটতে পারেন, তাদের মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন ভালো থাকে। এর ফলে ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রমের মতো জটিল রোগের ঝুঁকি হ্রাস পায়, যা আয়ু বাড়াতে সরাসরি সাহায্য করে।
দীর্ঘ ও রোগমুক্ত জীবন পেতে দৈনন্দিন রুটিনে হাঁটার অভ্যাস বজায় রাখার পাশাপাশি গতির প্রতি নজর দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। সামান্য সচেতনতাই আপনার জীবনের আয়ুষ্কাল বাড়িয়ে তুলতে পারে।