কানপুর চিড়িয়াখানায় রহস্যমৃত্যু! হ্রদের জলে হঠাৎ ভেসে উঠল হাজার হাজার মরা মাছ, নেপথ্যে কোন ভয়ংকর কারণ?

কানপুর চিড়িয়াখানার হ্রদে ফের এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। হ্রদের জলে হঠাৎ করেই হাজার হাজার মাছ মারা যাওয়ার দৃশ্য দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক অনুমান, একটানা বৃষ্টির কারণে জলের তলায় অক্সিজেনের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়াই এই প্রাণহানির প্রধান কারণ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইতিমধ্যেই হ্রদে বিশেষ অক্সিজেন ট্যাবলেট এবং জল সঞ্চালনের জন্য ইঞ্জিন পাম্প বসানো হয়েছে।

বারবার কেন ঘটছে এমন ঘটনা?
চিড়িয়াখানা সূত্রে খবর, নিয়মিত মৃত মাছ না তোলায় হ্রদটিতে ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি মাছ জমে গিয়েছিল। এর পাশাপাশি কিদওয়াই নগর ও সংলগ্ন এলাকার বিভিন্ন নর্দমা বা ড্রেনের নোংরা জল উপচে হ্রদের পরিষ্কার জলের সঙ্গে মিশে যাওয়ার ফলেই এই মারাত্মক পরিবেশ তৈরি হয়েছে। গত ২৪ জুলাই এবং গত ১১ আগস্টও হ্রদে একই রকমভাবে মৃত মাছ ভেসে উঠতে দেখা গিয়েছিল। বারবার এই ধরনের ঘটনায় চিড়িয়াখানার ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

পদক্ষেপ নিচ্ছে কর্তৃপক্ষ
পরিস্থিতি সামাল দিতে হারকোর্ট বাটলার টেকনোলজি ইনস্টিটিউট (HBTU)-এর একটি বিশেষ বিশেষজ্ঞ দল হ্রদের জলের নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষা শুরু করেছে। জলের সুনির্দিষ্ট দূষকগুলি চিহ্নিত করার পাশাপাশি এইচবিটিইউ, বাস স্টপ এবং ডিপোর নর্দমার জল যাতে আর কোনোভাবেই হ্রদে প্রবেশ করতে না পারে, তার স্থায়ী সমাধানের প্রস্তুতি নিচ্ছে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ।

কানপুর চিড়িয়াখানার পরিচালক ডঃ কানহাইয়ালাল জানান, নর্দমার জল বৃষ্টির জলের সঙ্গে মিশে হ্রদে প্রবেশ করায় জলের অক্সিজেন স্তর দ্রুত নেমে গেছে। জল বিশুদ্ধ করতে এবং অক্সিজেনের মাত্রা বাড়াতে হ্রদে ‘টক সীমা ভি’ (Tok Seema V)-এর মতো বিষাক্ত পদার্থ প্রতিরোধক রাসায়নিক এবং ‘ও২ ম্যাক্স’ (O2 Max)-এর মতো অক্সিজেন বৃদ্ধিকারী ট্যাবলেট মেশানো হচ্ছে। সেই সঙ্গে এয়ারেটর মেশিন বসিয়ে হ্রদ ও তার চত্বর পুরোপুরি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করার কাজ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *