হাসিনাকে ফেরত না দিলে ভারতে আসছেন না তারেক রহমান! ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে নয়া মোড়

দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মেরামতের প্রচেষ্টায় তৈরি হলো নতুন জটিলতা। ভারতের পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণ না করা পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারত সফর করবেন না বলে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে ঢাকা। রবিবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের মুখপাত্র এ.কে.এম. শহীদুল করিম এক সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট করেছেন যে, এই হাই-প্রোফাইল সফরের আগে একটি অনুকূল বা ‘উপযুক্ত পরিবেশ’ তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি।
ভারতের কাছে জোরালো দাবি ঢাকার
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে নয়াদিল্লির কাছে আবেদন জানানো হয়েছে যেন শেখ হাসিনাসহ অন্যান্য পলাতক আসামিদের প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা হয়। এছাড়া, দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী অধিকারকর্মী শরিফ ওসমান হাদি হত্যার সঙ্গে যুক্ত অভিযুক্তদেরও হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছে ঢাকা। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের আধিকারিকদের মধ্যে তারেক রহমানের সম্ভাব্য এই সফর নিয়ে আলোচনা চলছিল। এমনকি ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ সেশনেও তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল ভারত। তবে ঢাকার এই সাম্প্রতিক অবস্থানে পুরো সফরসূচি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
কেন বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে শেখ হাসিনার উপস্থিতি?
২০২৪ সালের আগস্ট মাসে তীব্র গণআন্দোলনের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাঁর অনুপস্থিতিতে বিচার সম্পন্ন করে এবং অভ্যুত্থানের সময় দমনপীড়নের অভিযোগে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। যদিও এই সমস্ত অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছেন হাসিনা।
গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লি থেকে গণমাধ্যমের সামনে বক্তব্য রাখার সময় শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশে ফিরে আসার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এরপরই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অবনতি ঘটে। দণ্ডিত এক সাবেক নেতাকে ভারতের ভূখণ্ড থেকে প্রকাশ্যে রাজনৈতিক কার্যকলাপে অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে ঢাকা। নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে অবশ্য জানানো হয়েছে যে, বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত আবেদনটি বর্তমানে তাদের আইনি প্রক্রিয়ার অধীনে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিতে অটল ঢাকা
অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপের মুখে দাঁড়িয়েও তারেক রহমানের সরকার বৈদেশিক নীতির ক্ষেত্রে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ বা সবার আগে বাংলাদেশ নীতি বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছে। সার্বভৌমত্ব, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতির ভিত্তিতেই প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায় ঢাকা। তবে বর্তমান কূটনৈতিক পরিস্থিতির যা গতিপ্রকৃতি, তাতে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুটাই যে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের সবচেয়ে বড় এবং কঠিন বাধা হিসেবে রয়ে গেল, তা বলাই বাহুল্য।