“ক্ষমতার অপব্যবহার বরদাস্ত নয়, প্রয়োজনে বহিষ্কার!” তোলাবাজি নিয়ে দলীয় বিধায়কদের চরম হুঁশিয়ারি শমীক ভট্টাচার্যের

রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের বার্তা দিয়ে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী ও দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। এবার দলীয় বিধায়কদের কড়া সতর্কবার্তা দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। দলের নাম ভাঙিয়ে অন্যায় কাজ, তোলাবাজি বা ক্ষমতার অপব্যবহার করলে কোনো অবস্থাতেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন তিনি। প্রয়োজনে দল থেকে বের করে দেওয়ার মতো চরম পদক্ষেপ করতেও পিছপা হবে না বিজেপি।
প্রশিক্ষণ শিবিরে রাজকীয় হুঙ্কার
নিউটাউনে বিজেপির প্রশিক্ষণ শিবিরে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দলের জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে এই কড়া বার্তা দেন শমীক ভট্টাচার্য। তিনি স্পষ্ট জানান, বিজেপি দীর্ঘ লড়াই এবং বহু দলীয় কর্মীর ত্যাগের বিনিময়ে রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে। এই ক্ষমতাকে ব্যক্তিগত স্বার্থে বা অপব্যবহারে ব্যবহার করার অনুমতি কাউকে দেওয়া হবে না।
শমীক ভট্টাচার্য আরও জানান, উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ, এমনকি দমদম থেকে নিউটাউন—রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের দলীয় জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত অভিযোগ আসছে দলের সদর দফতরে। এই ধরণের অন্যায় কাজকে হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
“ব্যক্তিগত ক্ষমতায় জেতেননি,” মনে করালেন রাজ্য সভাপতি
দলের একাংশের ভাবমূর্তি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বিজেপির রাজ্য সভাপতি মন্তব্য করেন, “দলের কিছু বিধায়ক হয়তো ভাবছেন তাঁরা নিজেদের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তায় জিতেছেন। এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। কর্মীদের ঘাম ও ত্যাগের ফলেই আজ আপনারা নির্বাচিত।”
বিধায়কদের একাংশের বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ তুলে তিনি আরও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। শমীক বলেন, “কোনো কোনো বিধায়ক ফিতে নিয়ে ফ্ল্যাট মাপতে পর্যন্ত ছুটছেন! এমন আচরণ অবিলম্বে শুধরে নিতে হবে।”
প্রয়োজনে কঠোর সিদ্ধান্ত
দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় মুখ্যমন্ত্রী যে কঠোর অবস্থানের কথা বলেছেন, তা স্মরণ করিয়ে দিয়ে শমীক সতর্ক করেন, ২০ জন বিধায়ককে দল থেকে বের করে দিতে হলেও বিজেপির কিছু যায় আসে না। বিধায়ক পদ ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের ওপর দাদাগিরি বা তোলাবাজি করলে কঠোরতম শাস্তি অপেক্ষা করছে বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয় বিজেপি শিবিরের পক্ষ থেকে।