ক্ষমতায় এসেই বিরাট চমক! রাজ্যে সরকার বদলের প্রথম ১০০ দিনেই কী কী কাজ করল সরকার?

রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নতুন সরকারের ১০০ দিন পূর্ণ হলো। গত ৯ মে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকেই শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মহিলা কল্যাণ, পরিবহণ, প্রশাসন ও শিল্প—বিভিন্ন ক্ষেত্রে একের পর এক বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। সম্প্রতি সরকারের এই প্রথম ১০০ দিনের কাজের খতিয়ান সামনে এনে একটি বিশেষ প্রকাশনাও আনা হয়েছে। নতুন সরকারের আমলে ঠিক কোন কোন ক্ষেত্রে পরিবর্তন এল, তা এক নজরে দেখে নেওয়া যাক।
শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে নতুন নির্দেশিকা
নতুন সরকারের শিক্ষাদফতরের নির্দেশ অনুযায়ী, রাজ্যের সমস্ত স্কুলগুলিতে এখন থেকে সম্পূর্ণ ‘বন্দে মাতরম’ গান গাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আগে যেখানে গানটির প্রথম দুটি স্তবক গাওয়া হতো, এখন থেকে পুরো গানটিই পরিবেশনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি জাতীয় সংগীত ‘জনগণমন’ গাওয়ার নিয়মও আগের মতোই বহাল রয়েছে।
স্বাস্থ্য ও মহিলা কল্যাণ প্রকল্প
ক্ষমতায় আসার পর পরই রাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়েছে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্প। এর ফলে রাজ্যের যোগ্য পরিবারগুলি প্রতি বছর ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস চিকিৎসার সুবিধা পাচ্ছেন। পাশাপাশি, নির্বাচনী ইস্তাহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী জুন মাসের শুরু থেকেই ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের আর্থিক সহায়তা উপভোক্তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পৌঁছতে শুরু করেছে। এছাড়া গত ১ জুন থেকে রাজ্যের সরকারি এসি ও নন-এসি বাসে মহিলা যাত্রীদের জন্য বিনামূল্যে যাতায়াতের ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে।
প্রশাসন ও পরিকাঠামোয় বদল
একসময়ে রাজ্যের প্রশাসনিক কেন্দ্র রাইটার্স বিল্ডিং থেকে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ দফতর নবান্নে স্থানান্তরিত হলেও, নতুন সরকার ঐতিহাসিক রাইটার্স ভবনকে ফের প্রশাসনের মূল কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। যদিও আপাতত মুখ্যমন্ত্রী নবান্ন থেকেই প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা করছেন। এছাড়া স্কুলপড়ুয়াদের পুষ্টির কথা মাথায় রেখে মিড-ডে মিল পরিচালনার দায়িত্ব ইসকনের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে এবং খাবারে নিয়মিত ডিম রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি, দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় বিএসএফ-এর (BSF) হাতে প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
শিল্পোন্নয়ন ও বিনিয়োগ
শিল্পের প্রসারেও বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। বাড়ির ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের জন্য ‘প্রধানমন্ত্রী সূর্যঘর যোজনা’ রাজ্যজুড়ে সক্রিয়ভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি হাওড়ায় আমুলের একটি বৃহৎ দই কারখানার শিলান্যাস হয়েছে, যা বিশ্বের অন্যতম বড় দুগ্ধ প্রক্রিয়াকরণ প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই সঙ্গে পুরুলিয়ায় ইস্পাত শিল্পে নতুন বিনিয়োগের পথ প্রশস্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
‘সংকল্প এবং সাফল্যের ১০০ দিন’
সরকারের এই প্রথম ১০০ দিন পূর্তি উপলক্ষে ৪১ পাতার একটি বিশেষ বই প্রকাশিত হয়েছে—যার নাম ‘পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সংকল্প এবং সাফল্যের ১০০ দিন’। এই বইটিতে সরকারের সমস্ত নীতি, প্রকল্প ও সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরা হয়েছে। নিউটাউনের প্রশিক্ষণ শিবির থেকে বিজেপি নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সরকারের এই সাফল্যের প্রতিবেদন সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে।