ইরানের বিরুদ্ধে পরমাণু হামলার ছক কষছে আমেরিকা! প্রাক্তন মার্কিন কংগ্রেস সদস্যের বিস্ফোরক দাবিতে শোরগোল

ইরানের বিরুদ্ধে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের কথা ভাবছে মার্কিন প্রশাসন—এমনই এক মারাত্মক অভিযোগ তুলে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন প্রাক্তন মার্কিন কংগ্রেস সদস্য মার্জোরি টেলর গ্রিন। তাঁর দাবি, এই বিষয়ে হোয়াইট হাউসের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা নাকি রীতিমতো স্ট্র্যাটেজি মিটিং করছেন। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ একটি পোস্টে গ্রিন দাবি করেন যে এই আলোচনা সম্পূর্ণ সত্যি এবং ট্রাম্প প্রশাসন পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের নিয়মকানুন শিথিল করার পরিকল্পনা করছে। তবে এই দাবির সপক্ষে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ বা নথি পেশ করেননি, এমনকি বৈঠকে উপস্থিত ব্যক্তিদের নামও প্রকাশ করেননি।

গোয়েন্দা রিপোর্টকে উপেক্ষা ও ইজরায়েলের প্রভাব

গ্রিনের দাবি অনুযায়ী, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টকে নাকি পাত্তাই দিচ্ছে না ট্রাম্প প্রশাসন। ওই গোয়েন্দা রিপোর্টে স্পষ্ট বলা হয়েছিল যে ইরান পরমাণু বোমা তৈরির কাছাকাছিও নেই। তাঁর মতে, ওয়াশিংটন স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত না নিয়ে ইজরায়েলের কথায় বেশি প্রভাবিত হচ্ছে। তিনি তীব্র হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আমেরিকা যদি ইরানের বিরুদ্ধে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করার মতো চরম পদক্ষেপ নেয়, তবে বিশ্বজুড়ে এক ভয়ংকর বিশ্বযুদ্ধ বেধে যেতে পারে। এর ফলে ব্যাপক প্রাণহানি ও বিশ্ব অর্থনীতিতে মারাত্মক বিপর্যয় নেমে আসবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।

তিনি আরও মনে করিয়ে দেন যে, ট্রাম্প অতীতে বিদেশে আর কোনো নতুন যুদ্ধে না জড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। গ্রিনের এই বিস্ফোরক অভিযোগের বিষয়ে হোয়াইট হাউস এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। মার্কিন সরকার বা প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকেও এমন কোনো ইঙ্গিত দেওয়া হয়নি যে ওয়াশিংটন ইরানের বিরুদ্ধে পরমাণু হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বা তাদের পরমাণু নীতিতে কোনো পরিবর্তন এনেছে।

তপ্ত ভূরাজনীতি ও ওয়াশিংটন-তেহরান সংঘাত

গত বেশ কিছুদিন ধরেই ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন ও সামরিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। একদিকে হরমুজ প্রণালীর মতো কৌশলগত জলপথে মার্কিন নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা এবং অন্যদিকে ইরানের ওপর লাগাতার চাপ বৃদ্ধির ফলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। ইরানও ওয়াশিংটনের এই নীতির তীব্র বিরোধিতা করে ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলার হুমকি দিয়ে রেখেছে। এর আগে ইরানের সেনাপ্রধান আমির হাতামি মার্কিন সৈন্যদের সন্ধান দিলে বা হত্যা করলে পুরস্কার ঘোষণা করায় উত্তেজনা আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এরই মধ্যে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সংক্রান্ত স্থায়ী চুক্তির সমস্ত কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

গ্রিনের রাজনৈতিক অবস্থান

মার্জোরি টেলর গ্রিন মূলত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের সমর্থক হিসেবেই পরিচিত। তবে ইরানের বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের বিদেশনীতির সমালোচনা তিনি এর আগেও করেছেন। ২০২৫ সালের জুন মাসে ইরানের পরমাণু কেন্দ্রে মার্কিন হামলার তীব্র সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেছিলেন যে প্রশাসন তাদের পূর্বের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসছে। তাঁর এই সাম্প্রতিক মন্তব্য আবারও তাঁকে ট্রাম্প প্রশাসনের বিদেশনীতির মুখোমুখি দাঁড় করাল। যদিও এখনও পর্যন্ত আমেরিকার পক্ষ থেকে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের কোনো সরকারি তথ্য বা সত্যতা সামনে আসেনি, ফলে গ্রিনের এই দাবি ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র জল্পনা ও উদ্বেগ বজায় রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *