এনটিএ-র ভুলেই কি ফের মাথায় হাত পরীক্ষার্থীদের? ইউজিসি-নেট বাতিলের সিদ্ধান্তে মোদীকে চরম আক্রমণ রাহুলের

একের পর এক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র নিয়ে বিতর্ক এবং তার জেরে বারবার নতুন করে পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হচ্ছে দেশের লাখ লাখ পড়ুয়াকে। এবার ইউজিসি-নেট (UGC-NET)-এর তিনটি বিষয়ের পরীক্ষা বাতিল করে তা নতুন করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘিরে তীব্র সমালোচনায় মুখর হয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা তথা কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) এবং জাতীয় পরীক্ষা নিয়ামক সংস্থা এনটিএ (NTA)-কে নিশানা করে তাঁর জোরালো অভিযোগ, “এনটিএ ভুল করে, কিন্তু শাস্তি ভোগ করতে হয় পড়ুয়াদের।”
জাতীয় পরীক্ষা নিয়ামক সংস্থা সূত্রে জানানো হয়েছে, ইউজিসি-নেট পরীক্ষার ইংরেজি, কমার্স ও সমাজবিজ্ঞান (Sociology)—এই তিনটি বিষয়ের পরীক্ষা বাতিল করে তা আবার নেওয়া হবে। মূলত প্রশ্নপত্রে ত্রুটির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সেই কমিটির পেশ করা রিপোর্টের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পরীক্ষা পরিচালনকারী সংস্থা। প্রসঙ্গত, পরীক্ষা সমাপ্ত হওয়ার প্রায় দু’মাস পর এই তিনটি বিষয়ের পরীক্ষা বাতিল করে নতুন সূচি ঘোষণা করা হয়েছে। এনটিএ-র ঘোষণা অনুযায়ী, ইংরেজি ও কমার্স বিষয়ের পরীক্ষা আগামী ৯ সেপ্টেম্বর এবং সমাজতত্ত্বের পরীক্ষা ১০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। তবে এই রি-টেস্টের জন্য পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনও অতিরিক্ত ফি নেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট করা হয়েছে। পাশাপাশি, বাকি ৮৪টি বিষয়ের পরীক্ষার ফল নির্ধারিত সময়েই প্রকাশিত হবে এবং আসন সংখ্যাতেও কোনও কাটছাঁট করা হবে না।
এই সিদ্ধান্তের পরেই সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ (পূর্বের টুইটার) একটি পোস্ট শেয়ার করে প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি আক্রমণ করেন রাহুল গান্ধী। তিনি লেখেন, “মোদীজি, আপনার এনটিএ কী করেছে, একবার ভালো করে দেখুন।” তাঁর অভিযোগ, বছরের পর বছর কঠোর প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষায় বসা হাজার হাজার তরুণ-তরুণীকে এখন ফের একই পরীক্ষার মানসিক প্রস্তুতি নিতে হবে। পরীক্ষার ফর্ম পূরণ, ফি প্রদান থেকে শুরু করে দূরের পরীক্ষা কেন্দ্রে যাতায়াত—পুরো প্রক্রিয়াটি ছাত্রছাত্রীদের আবার নতুন করে সহ্য করতে হবে। রাহুলের দাবি, পরীক্ষার্থীরা কোনওভাবেই এনটিএ-র এই প্রশাসনিক গাফিলতির জন্য দায়ী নন, অথচ তাঁদেরই এই ভুলের খেসারত দিতে হচ্ছে।
শুধু পরীক্ষা বাতিলের এই নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তেই থেমে থাকেননি কংগ্রেস সাংসদ, বরং দেশের সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা এক গভীর ও দীর্ঘমেয়াদী সমস্যায় জর্জরিত। পড়াশোনার নামে পড়ুয়াদের কাছ থেকে অর্থ, বহুমূল্য সময় এবং মানসিক শক্তি—সবকিছুই কেড়ে নেওয়া হচ্ছে, অথচ শেষ পর্যন্ত ক্যারিয়ার বা ভবিষ্যতের কোনও নিশ্চয়তা মিলছে না। রাহুলের আরও বিস্ফোরক প্রশ্ন, পরীক্ষার আগেই কি প্রশ্নপত্র কোনওভাবে ফাঁস বা আপস করা হয়েছিল? তাঁর অভিযোগ, এই মৌলিক প্রশ্নের কোনও স্পষ্ট উত্তর আজও দিতে পারেনি এনটিএ। শুধু তাই নয়, বারবার এই ধরনের পরীক্ষায় অনিয়মের ঘটনা ঘটলেও দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলেও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
নিট (NEET)-সহ একাধিক সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষা নিয়ে এর আগের বিতর্কগুলির প্রসঙ্গ টেনে রাহুল বলেন, তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ছিল এই সংকটের সমাধানের কেবল প্রথম ধাপ, শেষ নয়। এবার সরাসরি এনটিএ-র শীর্ষ নেতৃত্বকেও জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি তুলেছেন তিনি। একদিকে বারবার পরীক্ষার ফল ও প্রশ্নপত্র নিয়ে এনটিএ-র কার্যকারিতা প্রশ্নের মুখে পড়ছে, অন্যদিকে এই সুযোগে কেন্দ্রের পরীক্ষা পরিচালনা পদ্ধতি ও শিক্ষা পরিকাঠামোকে হাতিয়ার করে সুর চড়িয়েছে বিরোধী শিবির।