CJP-সমর্থকের বাবা-কে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ, গ্রেফতার হলেন ৮ জন

বাঁকুড়ার ইন্দাস থানার করিশুন্দা গ্রামে এক রাজনৈতিক সংগঠনের সমর্থকের বাবাকে পিটিয়ে খুন করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রবিবার দুপুরে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পর পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ করে মোট ৮ জনকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতদের মধ্যে ৩ জনের নাম সরাসরি অভিযোগপত্রে রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ ধৃতদের বিষ্ণুপুর মহকুমা আদালতে পাঠিয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত জুলাই মাসে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৯ জুলাই বাঁকুড়ার ইন্দাস থানার করিশুন্দা গ্রামের বাসিন্দা শেখ আবদুল আজিজ দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির একটি আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন এবং ২৭ জুলাই তিনি বাড়ি ফিরে আসেন। এরপর সংগঠনের নির্দেশ অনুযায়ী গত ১৩ অগাস্ট তিনি করিশুন্দা পশ্চিমপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে যান। অভিযোগ, সেই সময় স্কুলের প্রধান শিক্ষক কাশীনাথ দে তাঁকে পরের দিন আসতে বলেন। এরপরেই কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতী তাঁকে মারধর করে বলে অভিযোগ ওঠে।

পরিস্থিতি আরও জটিল হয় সেই রাতেই। অভিযোগ উঠেছে, একদল দুষ্কৃতী এরপর বাড়িতে এসে হামলা চালায়। প্রাণ বাঁচাতে আবদুল আজিজের পরিবারের সদস্যরা কোনোমতে সেখান থেকে পালিয়ে গেলেও বাড়িতে আটকে পড়েন তাঁর বাবা শেখ মহম্মদ মাফিক। দুষ্কৃতীরা তাঁকে লোহার রড ও লাঠি দিয়ে ব্যাপক মারধর করে বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুরুতর জখম অবস্থায় ওই বৃদ্ধকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। গত ১৫ অগাস্ট তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়, সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এই মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছাতেই তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়।

নিহতের স্ত্রী হাসিনা বেগম রবিবার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পরই পুলিশ তৎপর হয়ে ৮ জনকে আটক ও পরবর্তী সময়ে গ্রেফতার করে। এই ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

এদিকে এই ঘটনা প্রসঙ্গে রবিবার নবান্নে একটি সাংবাদিক বৈঠকে মুখ খুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তাঁর দাবি, এই ঘটনার সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয়ের কোনো যোগ নেই, অভিযুক্তরা সকলেই দুষ্কৃতী। ইতিমধ্যে এফআইআর হওয়া অভিযুক্তদের মধ্যে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং বাকিদেরও শীঘ্রই আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *