মুভি মাফিয়াদের চাপের মুখে অশ্লীল গান গাইতে হয়েছিল কুমার শানুকে? নেপথ্যের চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস!

নব্বইয়ের দশকের অন্যতম জনপ্রিয় তথা কিংবদন্তি গায়ক কুমার শানু তাঁর সুরেলা কণ্ঠের জাদুতে দীর্ঘকাল ধরে মাতিয়ে রেখেছেন আপামর ভারতবাসী। বাংলা হোক বা হিন্দি, বিভিন্ন ভাষায় তাঁর গাওয়া একের পর এক হিট গান শ্রোতাদের হৃদয়ে চিরস্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে। তবে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এই প্রথিতযশা গায়ক এমন কিছু তথ্য প্রকাশ্যে এনেছেন, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে জোর চর্চা।
মুভি মাফিয়াদের চাপ ও নীতিভঙ্গের আক্ষেপ
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে কুমার শানু জানান যে, তাঁর কর্মজীবনে একটি নির্দিষ্ট নীতি ছিল—তিনি কখনই গানে অশ্লীলতা আনবেন না এবং এমন ধরনের গান পরিহার করে চলবেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও তাঁর জীবনে কিছু ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটেছিল। নিজের পেশাগত জীবনে প্রবল চাপের মুখে পড়ে তাঁকে কয়েকটি বিশেষ গানে কণ্ঠ দিতে হয়েছিল বলে জানান তিনি।
গায়ক বলেন, “আমার একটা নীতি ছিল, আমি আমার গানে কখনও অশ্লীলতা আনতাম না। কিন্তু এক, দুটো ব্যতিক্রম ঘটনা আছে, যেখানে আমি আমার নীতি ধরে রাখতে পারিনি। আমার উপর অনেক চাপ ছিল, আমায় সেই গানগুলো গাইতেই হয়েছিল। না গাইলে হচ্ছিল না।” কোন কোন গানে তাঁকে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল, সেই প্রসঙ্গে তিনি ‘রাজ গায়া তবলা তাবেলে ম্যায়’ গানটির কথা উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, মুভি মাফিয়াদের প্রবল চাপের কারণেই তাঁকে এই ধরনের আপস করতে হয়েছিল, যদিও তিনি ব্যক্তিগতভাবে এই ধরনের কাজ সবসময় এড়িয়ে চলারই চেষ্টা করতেন।
সোনালী যুগ ও অভাবনীয় সাফল্য
উল্লেখ্য, ১৯৯০ এর দশকে মুক্তি পাওয়া ব্লকবাস্টার ছবি ‘আশিকি’-র হাত ধরেই সংগীত দুনিয়ায় রাতারাতি তারকাখ্যাতি পান কুমার শানু। এরপর আর তাঁকে পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ‘সাজন’, ‘সড়ক’, ‘দিওয়ানা’, ‘বাজিগর’, ‘১৯৪২: এ লাভ স্টোরি’-র মতো একাধিক জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক করে তিনি উপহার দিয়েছেন একের পর এক চিরস্মরণীয় গান। নব্বইয়ের দশকের বলিউডের প্রথম সারির এই গায়ক তাঁর অনন্য অবদানের জন্য ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড সহ বহু prestigious খেতাবে ভূষিত হয়েছেন।