সামান্য আলো-পাখাতেই ১৩০০ টাকা বিদ্যুৎ বিল! স্মার্ট মিটার বসতেই মাথায় হাত সাধারণ মানুষের

বাড়িতে সামান্য কয়েকটি আলো, পাখা, একটি টিভি এবং একটি ফ্রিজ ছাড়া অন্য কোনো ভারী বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম নেই। অথচ মাস শেষ হতেই বিদ্যুৎ বিল আসছে সাধ্যের বাইরে! পুরনো অ্যানালগ বা ডিজিটাল মিটারের আমলে যেখানে সাধারণ মানুষের বিল আসত ২০০ থেকে ৩৫০ টাকার মধ্যে, সেখানে নতুন ‘স্মার্ট মিটার’ বসানোর পর তা একলাফে পৌঁছে গিয়েছে ১৩০০ থেকে ১৩৫০ টাকায়—কখনও বা তারও বেশি। এই অতিরিক্ত ও অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলের জেরে চরম ক্ষোভ এবং উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়েছে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে।

মাতালগড় এলাকার ক্ষোভের চিত্র
সম্প্রতি মাতালগড় এলাকার বিদ্যুৎ গ্রাহকদের এই ভুক্তভোগী রূপটি সামনে এসেছে। এলাকার প্রবীণ তাঁতশিল্পী হাবিজুল আলিসেক জানিয়েছেন, তাঁর পাঁচজনের সংসার পুরোপুরি হস্তচালিত তাঁতশিল্পের ওপর নির্ভরশীল। ঘরে একটি ফ্রিজ, টিভি, দুটি পাখা ও দুটি আলো ছাড়া কোনো বিদ্যুৎ চালিত তাঁত বা ভারী যন্ত্রপাতি নেই। অথচ ডিজিটাল মিটার সরিয়ে সেখানে স্মার্ট মিটার বসতেই প্রতি মাসে বিল হাজার টাকার গণ্ডি পেরিয়ে যাচ্ছে। কোনো কোনো মাসে এই বিল প্রায় ১৩৬৫ টাকা পর্যন্ত পৌঁছে যাওয়ায় ঋণ ও সুদের টাকা নিয়ে তা মেটাতে হচ্ছে বলে চরম আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন তিনি।

দপ্তরে ঘুরেও মিলছে না সমাধান
প্রায় একই রকম অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন এলাকার অপর বাসিন্দা রুনু বিবি প্রামানিকও। তিনি জানান, আগে প্রতি মাসে বা তিন মাস অন্তর তাঁদের বিদ্যুৎ বিল আসত ১৫০ থেকে সাড়ে ৩০০ টাকার মধ্যে। একবার হঠাৎ অতিরিক্ত ৫০০০ টাকার বিল এলে তিনি তা মিটিয়েও দিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে প্রতি মাসেই ১৩৪৭ টাকা পর্যন্ত ভূতুড়ে বিল আসতে শুরু করে। তাঁর বাড়িতেও মাত্র দুটি পাখা, দুটি লাইট, একটি টিভি ও একটি ফ্রিজ রয়েছে। বিল সংশোধনের আশায় তিনি বিদ্যুৎ দপ্তর এবং অধিকার রক্ষা সংগঠনের দ্বারে দ্বারে ঘুরে মিটার পরীক্ষার জন্য দরখাস্ত জমা দিলেও এখনও পর্যন্ত কোনো সুরাহা মেলেনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *