‘বন্দে মাতরমের প্রতি ঘৃণা!’ লালকেল্লায় রাহুল গান্ধীর অনুপস্থিতি নিয়ে তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা

দেশের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসের ঐতিহাসিক উদযাপনে লালকেল্লার প্রাঙ্গণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জাতীয় পতাকা উত্তোলনের অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক ঝড় উঠেছে। টানা দ্বিতীয়বারের মতো এই রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান এড়িয়ে যাওয়ায় কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব, বিশেষ করে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে তীব্র আক্রমণ করেছে শাসকদল বিজেপি।
শনিবারের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সহ সমস্ত শীর্ষ মন্ত্রীরা। এছাড়াও ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল, প্রধানমন্ত্রীর প্রধান সচিব পিকে মিশ্র এবং শক্তিকান্ত দাসের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত থাকলেও ফাঁকাই ছিল বিরোধী শিবিরের শীর্ষ আসনগুলি।
বিজেপির কড়া আক্রমণ ও ‘দিমাগি নকশাল’ বিতর্ক
রাহুল গান্ধীর এই অনুপস্থিতিকে সহজভাবে নিচ্ছে না গেরুয়া শিবির। দলের জাতীয় মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ তীব্র আক্রমণ শানিয়ে লিখেছেন, “রাহুল গান্ধী লালকেল্লায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না। কোনো দেশপ্রেমী বিরোধী দলনেতা বা সরকারি পদে থাকা ব্যক্তি কি এমন কাজ করতে পারেন?” তাঁর অভিযোগ, স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান এড়িয়ে যাওয়ার এই সিদ্ধান্ত আসলে ‘বন্দে মাতরম’-এর প্রতি রাহুলের অনীহা ও ঘৃণারই প্রতিফলন। এমনকি তিনি বিরোধী দলনেতা হওয়ারই যোগ্য নন দাবি করে রাহুলকে ‘দিমাগি নকশাল’ (Urban Naxal) ইকো-সিস্টেমের অংশ বলে তোপ দেগেছেন বিজেপি মুখপাত্র।
টানা দ্বিতীয় বছর অনুপস্থিতি ও প্রধানমন্ত্রীর বার্তা
এর আগে ২০২৫ সালেও কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব স্বাধীনতা দিবসের এই সরকারি অনুষ্ঠান থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছিল। যদিও বিজেপির এই আক্রমণাত্মক সমালোচনার জবাবে এখনও পর্যন্ত কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এদিকে, এদিন লালকেল্লার ঐতিহাসিক মঞ্চ থেকে দেওয়া ভাষণে মহিলা সংরক্ষণ বিল এবং দেশের শক্তি সুরক্ষার মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যু তুলে ধরেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তবে জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান বিরোধী নেতার এই অনুপস্থিতি এবং শাসক-বিরোধী তরজা যে আগামী দিনে সংসদীয় রাজনীতিতে আরও উত্তাপ ছড়াবে, তা বলাই বাহুল্য।