ফর্ম ফিলাপ না করলে কি বাড়ি আসবে অফিসাররা? ডিজিটাল সেনসাস নিয়ে বড় সিদ্ধান্তের কথা জানাল প্রশাসন

অগস্ট মাসের প্রথম দিন থেকে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে ডিজিটাল সেনসাস বা স্ব-গণনার ঐতিহাসিক প্রক্রিয়া। রাজ্যের অন্যান্য জেলার পাশাপাশি কলকাতা শহরেও জোরকদমে এই কাজ শুরু হলেও, নির্ধারিত সময়সীমা শেষের মুখে এসে খোদ তিলোত্তমার বেহাল ছবিটা প্রশাসনের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। আগামী ১৫ অগস্ট অর্থাৎ আর মাত্র একদিন বাকি থাকলেও, জেলাগুলির তুলনায় কলকাতা পুরনিগম এলাকায় সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ অত্যন্ত কম। বড় একটা অংশ এখনও এই ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় অংশই নেননি। যা নিয়ে এখন জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে।
কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগে দেশের জনগণনা ইতিহাসে এই প্রথমবার পুরোপুরি ডিজিটাল সেনসাস ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। সেনসাস ইন্ডিয়ার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে মোবাইল বা কম্পিউটারের মাত্র কয়েকটি ক্লিকেই নাগরিকরা নিজেদের ‘সেলফ এন্যুমারেশন’ বা স্ব-গণনা ফর্ম পূরণ করে জমা করতে পারছেন। প্রশাসনের দাবি, এই গোটা পদ্ধতিটি অত্যন্ত সহজ ও ঝঞ্ঝাটহীন।
এই ডিজিটাল সেলফ সেনসাস সফল করতে শুরু থেকেই শহরজুড়ে ব্যাপক প্রচার চালিয়েছিল কলকাতা পুরনিগম কর্তৃপক্ষ। কেএমসি-র তরফে পুরকর্মীদের এই প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি নিজেদের পরিচিতদের তথ্য পূরণ করে দিতে উৎসাহিত করা হয়েছিল। এমনকি কলকাতার সমস্ত সরকারি এবং একাধিক বেসরকারি স্কুলের অষ্টম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের এই বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পরিকল্পনা ছিল, এই পড়ুয়ারাই নিজেদের পাশাপাশি আশেপাশের দুঃস্থ পরিবারগুলির ডিজিটাল জনগণনার ফর্ম পূরণ করে দেবে। কিন্তু এতকিছুর পরেও জেলাগুলির তুলনায় ডিজিটাল সেনসাসে অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে কলকাতা।
নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ১ থেকে ১৫ অগস্ট পর্যন্ত এই সেলফ এন্যুমারেশন প্রক্রিয়া চলার কথা। এর পরেই শুরু হবে বাড়ি-বাড়ি গিয়ে জনগণনার মূল কাজ। এই প্রসঙ্গে এক শীর্ষ আধিকারিক জানান, “সেলফ এন্যুমারেশন প্রক্রিয়া অত্যন্ত সহজ। যাঁরা এই প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন, তাঁরা একটি ১১ ডিজিটের কোড বা নম্বর পেয়েছেন। মোবাইল এসএমএস, ইমেল বা স্ক্রিনশট আকারে সেই নম্বরটি সংগ্রহ করে রাখতে হবে। পরবর্তী সময়ে যখন বাড়ি বাড়ি জনগণনাকারীরা আসবেন, তখন শুধু এই নম্বরটি দিলেই তারা অ্যাপের মাধ্যমে সমস্ত তথ্য ফেচ করে নিতে পারবেন। এর ফলে বারবার একই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে অযথা সময় নষ্ট হবে না।”
তবে যাঁরা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারেননি বা বাইরে ছিলেন, তাঁদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। আগামী ১৬ অগস্ট থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ি বাড়ি গিয়ে জনগণনার কাজ চালাবেন সরকারি কর্মীরা। সেই সময় গণনাকারীদের সঙ্গে সহযোগিতা করে প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও তথ্য দিয়ে ফর্ম পূরণ করে নিলেই সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়ে যাবে। তাই শেষ মুহূর্তের ডেডলাইন পার হওয়ার আগে সচেতন হন এবং জটিলতা এড়াতে দ্রুত পদক্ষেপ করুন।