শেখ হাসিনার ফাঁসির নির্দেশ ও দলের পতন! ৭৭ বছরের আওয়ামি লিগের কফিনে শেষ পেরেক এই অগাস্টেই?

বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে যাঁরা নিয়মিত খোঁজখবর রাখেন, তাঁরা একটা অদ্ভুত সমাপতনের কথা নিশ্চয়ই খেয়াল করেছেন। অগাস্ট মাস এলেই যেন কালো মেঘ ঘনিয়ে আসে আওয়ামি লিগের আকাশে। বর্তমানে এই দলটির যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ। তবে তাদের ৭৭ বছরের দীর্ঘ ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, শোক, সহিংসতা আর চরম রাজনৈতিক বিপর্যয়ের এক অদ্ভুত মেলবন্ধন লুকিয়ে আছে এই অগাস্ট মাসেই। দলটির ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তিনটি মর্মান্তিক ও যুগান্তকারী ঘটনা ঘটেছে বছরের এই অষ্টম মাসটিতেই।
১৫ অগাস্ট: ইতিহাসের এক কালো অধ্যায় সময়টা ১৯৭৫ সাল। ১৫ অগাস্ট সপরিবারে হত্যা করা হয় বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি এবং আওয়ামি লিগের প্রতিষ্ঠাকালীন নেতা শেখ মুজিবুর রহমানকে। এই হত্যাকাণ্ড দলটির রাজনৈতিক ইতিহাসে এতটাই গভীর ক্ষত তৈরি করেছিল যে, বছর ঘুরে অগাস্ট মাস এলেই তাঁরা এটিকে শোকের মাস হিসেবে পালন করে এসেছেন। একটি সদ্য স্বাধীন দেশের বুকে এমন ঘটনা দলটির জন্য ছিল এক অপূরণীয় ক্ষতি।
২১ অগাস্ট: অল্পের জন্য রক্ষা পান শেখ হাসিনা পঁচাত্তরের ঘটনার ঠিক তিন দশক পর দলটির জীবনে ফিরে আসে আরেকটি রক্তাক্ত অগাস্ট। ২০০৪ সালের ২১ অগাস্ট ঢাকায় আওয়ামি লিগের একটি বড় সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। সেদিনের সেই হামলায় দলটির বহু নেতাকর্মী হতাহত হন। তৎকালীন দলনেত্রী শেখ হাসিনা সে যাত্রা ভাগ্যক্রমে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন। আবারও প্রমাণিত হয়েছিল, অগাস্ট মাস আওয়ামি লিগের জন্য কতটা বিপজ্জনক হতে পারে।
৫ অগাস্ট: গণঅভ্যুত্থান ও এক সাম্রাজ্যের পতন এরপর আসে চব্বিশের ৫ অগাস্ট। টানা সাড়ে ১৫ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামি লিগ সরকারের তাসের ঘরের মতো পতন হয় প্রবল গণঅভ্যুত্থানের মুখে। এই দিনটি দলটির জন্য নিয়ে আসে চরমতম রাজনৈতিক বিপর্যয়। ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন শেখ হাসিনা। পরবর্তীতে এই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাঁকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয়। বহু রাজনৈতিক বিশ্লেষকের মতে, এটি আওয়ামি লিগের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এবং ভয়াবহ বিপর্যয়।
সব ঘটনার এক বিন্দু অগাস্ট ১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া আওয়ামি লিগের বয়স এখন ৭৭ বছর। এই দীর্ঘ পথচলায় ১৫ অগাস্ট, ২১ অগাস্ট এবং ৫ অগাস্টের প্রেক্ষাপট, কারণ ও পরিণতি একেবারেই আলাদা। ভিন্ন ভিন্ন সময়ে এবং সম্পূর্ণ ভিন্ন বাস্তবতায় ঘটনাগুলো ঘটেছে। কিন্তু দিনশেষে সব হিসাব গিয়ে মিলেছে ওই একটাই বিন্দুতে। আর তা হলো ক্যালেন্ডারের পাতায় থাকা সেই অগাস্ট মাস।