আপনার মাথা কি সেই পুরোনো বালিশেই পড়ে? অজান্তেই ডেকে আনছেন পক্ষাঘাত ও ঘাড়ের দুরারোগ্য ব্যাধি!

সারাদিনের ক্লান্তি দূর করতে ঘুম অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু যে বালিশে মাথা রেখে আপনি শান্তিতে ঘুমানোর স্বপ্ন দেখেন, সেটিই আপনার অজান্তে ঘাড় ও মেরুদণ্ডের মারাত্মক ক্ষতি করছে না তো? বাইরে থেকে যতই পরিষ্কার বা নিরীহ দেখাক না কেন, বছরের পর বছর ব্যবহারের ফলে বালিশের অন্দরে লুকিয়ে থাকা ধুলোবালি, ঘাম এবং এর আকৃতি নষ্ট হয়ে যাওয়া স্বাস্থ্যের ওপর ভয়ঙ্কর প্রভাব ফেলতে পারে। জয়পুরের অ্যাপোলো স্পেকট্রা হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. মিহির থানভি এই বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য সামনে এনেছেন।
ঘাড় ও মেরুদণ্ডের বেহাল দশা
নিয়মিত ব্যবহারের ফলে ১ থেকে ২ বছরের মধ্যে বালিশের ভেতরের উপাদানের কাঠামোগত পরিবর্তন ঘটে। ফলে বালিশ তার আসল উচ্চতা ও নমনীয়তা হারাতে শুরু করে। একটি চ্যাপ্টা বা অসমান বালিশ ঘাড়ের স্বাভাবিক বাঁক ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়, যার ফলে সার্ভিকাল স্পাইন তার সঠিক অবস্থান থেকে সরে যায়। এর ফলে রাতের পর রাত মেরুদণ্ড ও ঘাড়ের পেশির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়তে থাকে, যা দীর্ঘমেয়াদে পিঠ ও ঘাড়ে অসহ্য ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
ঘুম ভাঙলেই তীব্র মাথা ব্যথা ও পেশির টান
পুরোনো ও নষ্ট হয়ে যাওয়া বালিশের কারণে সকালে ঘুম থেকে উঠেই অনেকের ঘাড়ে আড়ষ্টতা, পেশিতে টান এবং তীব্র মাথাব্যথার মতো সমস্যা দেখা দেয়। ঘাড়ের মাংসপেশি দীর্ঘক্ষণ ভুল ভঙ্গিমায় থাকার কারণে স্নায়ুর ওপর চাপ পড়ে, যা ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। তবে পুরোনো বালিশের সঙ্গে চুল পড়ার কোনো বৈজ্ঞানিক যোগসূত্র নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
বালিশের অন্দরে লুকিয়ে অদৃশ্য বিপদ
চোখের আড়ালে বালিশের ভেতরে জমতে থাকে মৃত ত্বকের কোষ, সিবাম, আর্দ্রতা, ডাস্ট মাইট বা ধুলোর কণা এবং বিভিন্ন মাইক্রোবিয়াল অ্যালার্জেন। দীর্ঘমেয়াদী এই উপাদানগুলো শ্বাসতন্ত্র এবং ত্বকের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। অ্যালার্জির কারণে শ্বাসকষ্ট বা রাতে বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে, যা শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও মেরামতের প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে।
কবে বদলাবেন আপনার বালিশ?
নির্দিষ্ট কোনো নিয়মে ১ বা ২ বছরের মধ্যে বালিশ বদলাতেই হবে এমন নয়। এটি নির্ভর করে বালিশের উপাদানের ওপর। হাই-ডেনসিটি ল্যাটেক্স বা মেমোরি ফোম বালিশ পলিয়েস্টার বা তুলো দিয়ে তৈরি বালিশের তুলনায় অনেক বেশি দিন টেকে। তবে বালিশ যদি চাপ দেওয়ার পরেও নিজের আগের আকৃতিতে ফিরে না আসে, অথবা ঘাড়ে নিয়মিত ব্যথা অনুভূত হয়, তবে অবিলম্বে তা পরিবর্তন করা উচিত।
শোওয়ার ভঙ্গি অনুযায়ী বালিশের উচ্চতা
সব মানুষের জন্য একই ধরনের বালিশের মাপ উপযোগী নয়।
কাত হয়ে শোওয়ার অভ্যাস থাকলে: কাঁধ ও ঘাড়ের মাঝখানের ফাঁকা জায়গা পূরণ করতে একটু উঁচুমাত্রার বালিশ প্রয়োজন, যাতে মেরুদণ্ড বাঁকা না হয়ে যায়।
চিৎ হয়ে শোওয়ার অভ্যাস থাকলে: ঘাড়ের স্বাভাবিক বাঁক বজায় রাখতে মাঝারি উচ্চতার বালিশ দরকার।
উপুড় হয়ে শোওয়ার অভ্যাস থাকলে: ঘাড়ের ওপর অতিরিক্ত চাপ এড়াতে একদম পাতলা বালিশ ব্যবহার করা উচিত।