পারিবারিক ব্যবসা নাকি অন্য কিছু? টাটা সাম্রাজ্যের আসল রহস্য ফাঁস হতেই চোখ কপালে তুলবে নেটদুনিয়া

ভারতের অন্যতম বৃহত্তম এবং সবচেয়ে বিশ্বস্ত শিল্পগোষ্ঠী হিসেবে পরিচিত টাটা গ্রুপ (Tata Group)। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বজুড়ে সমাদৃত এই সংস্থার সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে এক অনন্য ব্যবসায়িক মডেল। কিন্তু সাধারণ মানুষের মনে প্রায়শই একটি প্রশ্ন জাগে—এত বড় শিল্প সাম্রাজ্যের আসল মালিক কে? কোনো একক ব্যক্তি বা টাটা পরিবারের কোনো সদস্য কি এর সম্পূর্ণ মালিকানা ভোগ করেন? আসল সত্যটা জানলে আপনিও অবাক হবেন।

पारंपरिक পারিবারিক ব্যবসা বা কর্পোরেট সংস্থার থেকে টাটা গ্রুপের কাঠামো সম্পূর্ণ আলাদা। এই গ্রুপের মূল হোল্ডিং কোম্পানি হলো ‘টাটা সন্স’ (Tata Sons)। আর এই টাটা সন্সের প্রায় ৬৬ শতাংশ শেয়ার কোনো ব্যক্তি বা পরিবারের হাতে নেই, বরং তা নিয়ন্ত্রিত হয় বিভিন্ন দাতব্য ট্রাস্টের (Charitable Trusts) মাধ্যমে।

কারা এই সংস্থার আসল মালিক? তথ্য অনুযায়ী, টাটা সন্সের সবচেয়ে বড় অংশীদার হলো ‘স্যার দোরাবজি টাটা ট্রাস্ট’ এবং ‘স্যার রতন টাটা ট্রাস্ট’। সম্মিলিতভাবে এই দুটি ট্রাস্টের হাতে টাটা সন্সের প্রায় ৫১.৫৪ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। অর্থাৎ, কোম্পানিটির ওপর স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে এই দাতব্য ট্রাস্টগুলোরই। এর পাশাপাশি টাটা পরিবারের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য ট্রাস্টের হাতেও শেয়ার রয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৬৬ শতাংশ শেয়ারের মালিক এই দাতব্য ট্রাস্টগুলো, যা কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। ট্রাস্টের ট্রাস্টি বোর্ডই এই শেয়ার সংক্রান্ত সমস্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে।

নোয়েল টাটা কি সংস্থার মালিক? সাধারণ মানুষের মনে প্রায়ই প্রশ্ন আসে যে, টাটা ট্রাস্টসের বর্তমান চেয়ারম্যান নোয়েল টাটা কি এই বিপুল সম্পত্তির ব্যক্তিগত মালিক? এর উত্তর হলো—না। নোয়েল টাটা ব্যক্তিগতভাবে এই ট্রাস্টগুলোর মালিকানাধীন শেয়ারের অধিকারী নন। শেয়ারগুলি সংশ্লিষ্ট ট্রাস্টের নামেই থাকে এবং ট্রাস্টি বোর্ডই তা পরিচালনা করে। টাটা ট্রাস্টস হলো মূলত একটি ছাতা-কাঠামো, যার অধীনে সমস্ত জনহিতকর ট্রাস্টগুলি পরিচালিত হয়।

অর্জিত অর্থ কোথায় খরচ করা হয়? টাটা গ্রুপের এই মডেল অন্যান্য পারিবারিক ব্যবসার চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা হওয়ার মূল কারণ এর সমাজকল্যাণমূলক দৃষ্টিভঙ্গি। টাটা সন্সের এই বিশাল অংশীদারিত্ব থেকে আসা লভ্যাংশ বা আয় ব্যক্তিগত মুনাফার জন্য ব্যবহার করা হয় না। পরিবর্তে, এই সমস্ত অর্থ শিক্ষা, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, জীবিকা নির্বাহ এবং শিল্প ও সংস্কৃতির প্রসারে নিয়োজিত বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কাজে ব্যয় করা হয়। ১৯৫৯ সালে গঠিত এমকে টাটা ট্রাস্টের মতো অন্যান্য ট্রাস্টগুলিও এই একই উদ্দেশ্যে কাজ করে চলেছে।

সংক্ষেপে বলতে গেলে, টাটা গ্রুপের মালিকানা কোনো একক ব্যক্তির হাতে না থেকে এমন এক জনকল্যাণ মডেলের ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে, যা দেশের সাধারণ মানুষের উন্নয়ন ও সমাজসেবার স্বার্থেই নিজেদের উপার্জিত অর্থ ফিরিয়ে দেয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *