ছুটির আমেজে বড়সড় বিপর্যয়! আইআইটি চত্বরে ছাত্রের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য

ফের এক ছাত্রের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠল আইআইটি খড়গপুর চত্বর। বুধবার বিকেলে প্রতিষ্ঠানের নালন্দা কমপ্লেক্সের ছাদ থেকে পড়ে মৃত্যু হয়েছে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের দ্বিতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থীর। মৃত ছাত্রের নাম অঙ্কিত শর্মা (১৯)। তিনি রাজস্থানের বাসিন্দা ছিলেন। কীভাবে তিনি ছাদ থেকে পড়ে গেলেন, এটি নিছকই দুর্ঘটনা নাকি এর নেপথ্যে অন্য কোনো রহস্য রয়েছে—তা নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র ধোঁয়াশা। ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার বিকালের দিকে নালন্দা ক্লাসরুম কমপ্লেক্সের নিকটবর্তী এলাকা থেকে গুরুতর জখম অবস্থায় অঙ্কিতকে উদ্ধার করা হয়। ক্যাম্পাসের নিরাপত্তাকর্মীরাই দ্রুত তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান, তবে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এর পরেই তাঁর দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

খড়গপুর ডিভিশনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বুশরা বানো জানান, “আইআইটি খড়গপুরে এক ছাত্রের মৃত্যুর খবর পেয়েই পুলিশ তৎপর হয়েছে। মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের দ্বিতীয় বর্ষের ওই ছাত্রের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং তদন্ত সম্পূর্ণ না হলে এখনই মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ বলা সম্ভব নয়। পুলিশ সব দিক খতিয়ে দেখছে।”

অন্যদিকে, এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আইআইটি খড়গপুরের ডিরেক্টর সুমন চক্রবর্তী। তিনি বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক এবং বিস্ময়কর। নিরাপত্তাকর্মীদের প্রাথমিক অনুমান, ক্লাসরুম কমপ্লেক্সের কাছ থেকেই ওই ছাত্র নিচে পড়ে গিয়েছিল। তবে ঠিক কী কারণে এই ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে এখনও কোনো স্পষ্ট সূত্র মেলেনি। পুলিশের তদন্তেই পুরো বিষয়টি পরিষ্কার হবে।”

উল্লেখ্য, খড়গপুর আইআইটি চত্বরে ছাত্রমৃত্যুর ঘটনা নতুন নয়। সাম্প্রতিক অতীতে ক্যাম্পাসে একাধিক পড়ুয়ার অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল, এমনকি কিছুদিন আগে প্রতিষ্ঠানের এক অধ্যাপকের মৃত্যুর ঘটনাও তীব্র উদ্বেগ ছড়িয়েছিল শিক্ষামহলে। একের পর এক এমন ঘটনায় পড়ুয়াদের নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। যদিও পড়ুয়াদের মানসিক চাপ কমাতে এবং তাঁদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ডিরেক্টর সুমন চক্রবর্তীর উদ্যোগে ‘সেতু’ অ্যাপ-সহ নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল, তবুও এমন মর্মান্তিক পরিণতি রোধ করা গেল না কেন, তা নিয়ে এখন থেকেই সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *