আমির খানের সঙ্গে ঘরের মধ্যে বন্ধ অবস্থায় কী হয়েছিল? মুখ খুললেন পূজা বেদী!

বলিউড সুপারস্টার আমির খানের তৃতীয় বিয়ের পর থেকেই তাকে ঘিরে বিভিন্ন মহলে নানারকম বিতর্ক এবং সমালোচনার ঝড় বইছে। অনেকেই তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন এবং তার দিকে আঙুল তুলছেন। এই আবহেই এবার আমির খানের অতীতের আচরণ ও কর্মজীবন নিয়ে মুখ খুললেন নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় অভিনেত্রী পূজা বেদী। ‘জো জিতা ওহি সিকান্দার’ ছবির সময় থেকেই আমির খানের সঙ্গে তাঁর প্রেমের গুঞ্জন চাউর হয়েছিল। তবে দীর্ঘ সময় পর সেই সমস্ত জল্পনা তো উড়িয়েই দিলেন, পাশাপাশি শুটিং সেটের এমন এক বিস্ফোরক ঘটনার কথা ফাঁস করলেন যা শুনে চোখ কপালে উঠবে নেটিজেনদের।
পূজা বেদী সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সাংবাদিক ভিকি লালওয়ানিকে দেওয়া খোলামেলা কথোপকথনে পুরনো দিনের নানা স্মৃতির পাতা উলটেছেন। তাঁকে যখন জিজ্ঞেস করা হয় যে, অতীতে আমির খানের সঙ্গে তাঁর প্রেমের গুঞ্জনে কতটা সত্যতা ছিল, তখন হেসে উড়িয়ে দিয়ে অভিনেত্রী সাফ জানান, এই সমস্ত দাবির বিন্দুমাত্র সত্যতা নেই। এরপরই তিনি ‘আতঙ্ক হি আতঙ্ক’ ছবির শুটিংয়ের একটি অজানা অধ্যায় তুলে ধরেন।
অভিনেত্রী জানান, ওই ছবিতে আমির খানের সঙ্গে তাঁর একটি আবেগঘন রোমান্টিক দৃশ্য ছিল, যা অবশ্য পরবর্তীতে ছবির ফাইনাল এডিট থেকে বাদ দেওয়া হয়। সেই দৃশ্যের শুটের আগের মুহূর্তের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে পূজা বেদী বলেন, তখনকার দিনে বর্তমানের মতো উন্নত মেকআপ ভ্যান বা রুমের ছড়াছড়ি ছিল না। ফিল্ম সিটির কাছে একটি বড় ভিলা বা বাংলোতে ওই দৃশ্যটির শুটিং চলছিল। শট শেষ হওয়া মাত্রই পরিচালক বা কুশীলবরা তাঁকে এবং আমির খানকে একটি ঘরের ভেতরে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন।
রোমান্টিক দৃশ্যের আগের সেই স্নায়ুর চাপের কথা বলতে গিয়ে পূজা বেদী যোগ করেন, “তো এখন আমি ঘরে বসে আছি, আমিরও ঘরে বসে আছে, আর ঠিক সামনেই একটা বড় বিছানা পাতা। আমি মনে মনে ভাবছি, আর মাথায় হাজারো চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে। একজন তরুণী অভিনেত্রী হিসেবে মনে ভয় কাজ করছিল, বলিউডে কি তবে এসবেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়? সেই মুহূর্তে কিছুটা বিভ্রান্ত এবং ভীত বোধ করছিলাম।”
তবে সেই অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে আমির খান যেভাবে পরিস্থিতি সামলেছিলেন, তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন পূজা। অভিনেত্রীর কথায়, “আমির চুপচাপ বসে আছে। আমিও চুপচাপ বসে আছি। আমির আমার দিকে তাকাচ্ছে, আমিও আমিরের দিকে তাকাচ্ছি। হঠাৎ সে আমার দিকে তাকিয়ে বলে উঠল— ‘তুমি কি দাবা খেলবে?’ আমি সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠলাম, ‘আমি দাবা ভালোবাসি,’ কারণ সে আর আমি প্রায়ই একসঙ্গে দাবা খেলতাম। এরপর সে সঙ্গে সঙ্গে দাবার সেটটা বের করে আমাদের ব্যস্ত করে দিল।”
আমিরের এই সজ্জন আচরণে যে তিনি ভীষণভাবে স্বস্তি পেয়েছিলেন, তা অকপটে স্বীকার করেছেন পূজা বেদী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, আমির একেবারেই সেই ধরনের বাজে সহ-অভিনেতাদের মতো ছিলেন না, যাঁরা সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করেন। বরং তাঁর ভদ্র আচরণ সেই মুহূর্তে তরুণী পূজার সমস্ত ভয় ও অস্বস্তি এক নিমিষে দূর করে দিয়েছিল। নব্বইয়ের দশকের সেই নস্টালজিক কিসসা এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো শোরগোল ফেলে দিয়েছে।