অ্যাপলের দিন কি শেষ? ভারতে এল গুগলের প্রথম ব্লুটুথ ট্র্যাকার, দাম কত জানেন?

হারিয়ে যাওয়া চাবি, ব্যাগ কিংবা অন্যান্য জরুরি জিনিস খুঁজে পাওয়ার দিন এবার বদলাতে চলেছে। অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্য বড় স্বস্তি নিয়ে এল গুগল। ভারতে আনুষ্ঠানিকভাবে লঞ্চ হলো বহুল প্রতীক্ষিত ‘গুগল পিক্সেল ট্যাগ’ (Google Pixel Tag)। সরাসরি অ্যাপেল এয়ারট্যাগের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামা গুগলের এই প্রথম ব্লুটুথ ট্র্যাকারটি সংস্থার শক্তিশালী ‘ফাইন্ড হাব’ নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কাজ করবে।
গুগল ইন্ডিয়া অনলাইন স্টোর সূত্রে জানা গেছে, ভারতে একটি পিক্সেল ট্যাগের দাম রাখা হয়েছে ৩,৭৯৯ টাকা। পাশাপাশি, চারটির একটি কম্বো প্যাক কিনতে খরচ হবে ১২,৯০০ টাকা। আগামী নভেম্বর মাস থেকেই এটি বাজারে পাওয়া যাবে। আপাতত এটি ‘ফগ’ বা ধূসর রঙে উপলব্ধ হবে। দেখতে অত্যন্ত আকর্ষণীয়, ছোট, মসৃণ ও নুড়ির মতো আকৃতির এই ডিভাইসের সামনে রয়েছে গুগলের নিজস্ব লোগো এবং একটি ছোট্ট এলইডি আলো।
কীভাবে কাজ করবে এই ট্র্যাকার?
পিক্সেল ট্যাগটি চাবি, ব্যাগ বা যে কোনও মূল্যবান জিনিসের সঙ্গে খুব সহজেই আটকে রাখা যায়। এরপর ‘গুগল ফাইন্ড হাব’-এর মাধ্যমে খুব সহজেই হারিয়ে যাওয়া জিনিসের সঠিক অবস্থান ট্র্যাক করা সম্ভব। ব্লুটুথ চ্যানেল সাউন্ডিং এবং আল্ট্রা-ওয়াইডব্যান্ড (UWB) প্রযুক্তি ব্যবহার করার ফলে কাছাকাছি থাকা জিনিসের অবস্থান আরও নিখুঁতভাবে চিহ্নিত করতে পারে এই ট্র্যাকারটি।
সামঞ্জস্যপূর্ণ পিক্সেল ফোনে ‘ফাস্ট পেয়ার’ থাকার কারণে এর সেটআপ প্রক্রিয়াও অত্যন্ত দ্রুত হয়। ফাইন্ড হাব অ্যাপের মাধ্যমে পিক্সেল ট্যাগে নির্দিষ্ট শব্দ বাজিয়ে খুব সহজেই হারিয়ে যাওয়া জিনিস খুঁজে পাওয়া যাবে। শুধু তাই নয়, এর বিপরীত দিক থেকেও কাজ করার দারুণ সুবিধা রয়েছে। পিক্সেল ট্যাগের বোতামে চাপ দিলে সংযুক্ত থাকা ফোনে রিং বাজবে, এমনকি ফোন সাইলেন্ট মোডে থাকলেও তা বেজে উঠবে। পাশাপাশি, সামঞ্জস্যপূর্ণ পিক্সেল ফোনে জেমিনাইকে নির্দেশ দিয়েও এই ট্যাগে শব্দ বাজানো সম্ভব।
ব্যাটারি লাইফ এবং ওয়াটারপ্রুফ ক্ষমতা
এই ট্র্যাকারটিতে ব্যবহার করা হয়েছে বদলানো যায় এমন CR2032 ব্যাটারি। গুগলের দাবি অনুযায়ী, একটি ব্যাটারিতে এটি এক বছরেরও বেশি সময় সচল থাকে। ফলে বারবার ব্যাটারি বা পুরো ট্র্যাকারটি বদলানোর কোনো ঝামেলা নেই। এছাড়া জল ও ধুলো থেকে সুরক্ষার জন্য এতে দেওয়া হয়েছে IP67 রেটিং। অর্থাৎ, এক মিটার গভীর জলে সর্বোচ্চ ৩০ মিনিট পর্যন্ত অক্ষত থাকতে পারে এই ডিভাইসটি।
এক নজরে স্পেসিফিকেশন
-
অ্যান্ড্রয়েড ৯ বা তার পরের সংস্করণে চলা ডিভাইসের সঙ্গে এটি ব্যবহার করা যাবে।
-
ডিভাইসটিতে রয়েছে বিল্ট-ইন অ্যাক্সিলেরোমিটার।
-
পলিকার্বোনেট ও ধাতুর মিশ্রণে তৈরি এই ট্র্যাকারের ওজন মাত্র ১১.৮ গ্রাম।
-
এর মাপ ২৮ × ৪৬.১ × ৫.৪ মিলিমিটার।
-
ডিভাইসের সঙ্গে কোম্পানি দিচ্ছে এক বছরের ওয়্যারেন্টি।