মৃত্যুহার প্রায় ৫০%! নতুন স্ট্রেইনের ছোবলে ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে ইবোলা মহামারি, জানুন এর ভয়ঙ্কর লক্ষণগুলি

বিশ্বজুড়ে ফের একবার ত্রাস সৃষ্টি করেছে ইবোলা ভাইরাস। গত মে মাসে কঙ্গোয় প্রথম এই ভাইরাসের সংক্রমণের হদিশ মিলেছিল। কিন্তু মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে গোটা আফ্রিকাজুড়ে ত্রাসের অপর নাম হয়ে উঠেছে এই মারণ রোগ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর প্রকাশিত সর্বশেষ সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই প্রাদুর্ভাবে আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে চার হাজার এবং ইতিমধ্যেই মৃত্যু হয়েছে ২ হাজার ৬১ জনের।
চলতি বছরের ইবোলা মহামারি অতীতের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে অত্যন্ত ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। গত ১৫ মে, ২০২৬ তারিখে ডিআরসি-তে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রাদুর্ভাব ঘোষণা করার মাত্র দু’দিনের মধ্যেই এটিকে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা (PHEIC) হিসেবে ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। পরিসংখ্যান বলছে, মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ছুঁতে যেখানে প্রায় ৯ সপ্তাহ সময় লেগেছিল, তার মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যেই তা দ্বিগুণ হয়ে ২ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। সংক্রমণের এই অবিশ্বাস্য গতি স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
কেন বাড়ছে উদ্বেগ? কী বলছে WHO? স্বাস্থ্য আধিকারিকদের মতে, নিরাপত্তাহীনতা, সীমিত স্বাস্থ্য পরিকাঠামো এবং আক্রান্তদের নাগাল না পাওয়ার মতো প্রতিকূলতা সংক্রমণ রোধের কাজকে অত্যন্ত জটিল করে তুলেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে নজরদারি জোরদার করা, ল্যাব টেস্ট এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। তবে নতুন করে আতঙ্ক বাড়িয়েছে কঙ্গোয় হদিশ মেলা ইবোলার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ‘বুন্দিবুগি’। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, এই বিরল স্ট্রেইনের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য এখনও পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো টিকা বা চিকিৎসা পদ্ধতি তৈরি হয়নি। অতীতে এই স্ট্রেইনের প্রাদুর্ভাবে মৃত্যুর হার প্রায় ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত দেখা গিয়েছিল।
ইবোলা ভাইরাসের প্রধান লক্ষণগুলি: ডব্লিউএইচও এবং সিডিসি (CDC)-র তথ্য অনুযায়ী, শরীরে ভাইরাস প্রবেশের ২ থেকে ২১ দিনের মধ্যে এর লক্ষণগুলি প্রকাশ পেতে শুরু করে।
-
প্রাথমিক লক্ষণ: হঠাৎ উচ্চ জ্বর, চরম ক্লান্তি ও দুর্বলতা, তীব্র মাথা ব্যথা, পেশিতে ব্যথা এবং গলা ব্যথা।
-
পরবর্তী ও মারাত্মক লক্ষণ: অবস্থার অবনতি হলে বমি ও বমিভাব, ডায়রিয়া, ত্বকে ফুসকুড়ি, লিভার ও কিডনির কার্যকারিতা হ্রাস পাওয়া এবং নাক, মাড়ি কিংবা চোখ দিয়ে রক্ত পড়ার মতো ভয়ংকর উপসর্গ দেখা দেয়।
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ইবোলা ভাইরাসের গড় মৃত্যুহার প্রায় ৫০ শতাংশ। এই ভাইরাস সরাসরি শরীরের রক্তনালীকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং রক্ত জমাট বাঁধতে বাধা দেয়, যার ফলে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক রক্তপাত ঘটে এবং অঙ্গহানি হয়ে রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। দ্রুত সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক স্তরেও এখন কঠোর সতর্কতা জারি করা হয়েছে।