এক ছাদের নিচে থেকেও আপনাকে কেন বেশি মশা কামড়ায়? আসল রহস্য জানলে মাথা ঘুরে যাবে!

একই ঘরে কিংবা একই বিছানায় শুয়ে থাকা সত্ত্বেও পরিবারের বা বন্ধুদের মধ্যে কাউকেই মশা খুব বেশি কামড়ায়, আবার কাউকে প্রায় ছুঁয়েও দেখে না—এমন দৃশ্য খুবই চেনা। বহু মানুষের মনেই এই প্রশ্ন জাগে যে, মশার কাছে কি তবে মানুষের বিশেষ কোনো পক্ষপাতিত্ব আছে? কেন কিছু নির্দিষ্ট মানুষকে মশা বেশি কামড়ায়, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই গবেষণা চালিয়ে আসছেন বিজ্ঞানীরা। আর সেই গবেষণাতেই উঠে এসেছে এক অদ্ভুত ও চমকপ্রদ তথ্য।
কোন মানুষের প্রতি মশা বেশি আকৃষ্ট হয়?
বিজ্ঞানের ভাষায়, মশার পছন্দ বা আকর্ষণ কোনো জাদুবলে তৈরি হয় না, বরং এর পেছনে কাজ করে নির্দিষ্ট কিছু রাসায়নিক ও শারীরিক কারণ। মশার এই অদ্ভুত ‘মনস্তত্ত্ব’ বা পছন্দের নেপথ্যে প্রধানত যে বিষয়গুলি কাজ করে:
কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমন: মানুষ বা প্রাণীরা শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে যে কার্বন ডাই অক্সাইড (CO2) ত্যাগ করে, মশা দূর থেকেই তা শনাক্ত করতে পারে। যে সমস্ত মানুষ একটু জোরে শ্বাস নেন বা যাঁদের শরীর বেশি পরিমাণে কার্বন ডাই অক্সাইড ছাড়ে, তাঁদের দিকে মশার দল খুব দ্রুত আকৃষ্ট হয়।
শরীরের নিজস্ব গন্ধ ও ঘাম: মানুষের ঘামে থাকা ল্যাকটিক অ্যাসিড, ইউরিক অ্যাসিড এবং অ্যামোনিয়ার মতো বিভিন্ন রাসায়নিক যৌগ মশার কাছে এক ধরনের সুগন্ধের মতো কাজ করে। যাঁদের শরীরে এই যৌগগুলির মাত্রা কিছুটা বেশি থাকে, মশা তাঁদের বেশি কামড়ায়।
রক্তের গ্রুপ: বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, ও-পজেটিভ বা ও-নেগেটিভ (O Group) রক্তের মানুষের প্রতি মশার আকর্ষণ অন্যান্য গ্রুপের তুলনায় অনেকটাই বেশি থাকে।
ত্বকের মাইক্রোবায়োম: আমাদের ত্বকে বসবাসকারী প্রাকৃতিক ব্যাকটেরিয়ার ধরন একেক জনের ক্ষেত্রে একেক রকম হয়। এই ব্যাকটেরিয়াগুলি ত্বকে এক বিশেষ গন্ধ তৈরি করে, যা কোনো কোনো মানুষের ক্ষেত্রে মশাকে বেশি আকর্ষণ করে।
সবমিলিয়ে, মশার কামড় খাওয়া নিছক কোনো ভাগ্যের ব্যাপার নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে পুরোপুরি বিজ্ঞানসম্মত কারণ। আপনার শরীর থেকে নির্গত ঘাম, শ্বাসপ্রশ্বাসের মাত্রা এবং জিনগত বৈশিষ্ট্যের ওপরই নির্ভর করে মশা আপনাকে কতটা পছন্দ করবে!