দিনরাত ২০ ফুট জলের তলায় সাঁতার কাটে ১৭ বছরের কিশোর! মুর্শিদাবাদের এই অদ্ভুত ঘটনায় হতবাক সকলে

পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বেলডাঙ্গা থানার ফরাসিপাড়া এলাকায় ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর ইকবাল শেখের অস্বাভাবিক আচরণে গোটা অঞ্চলে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। গত কয়েক মাস ধরে এই যুবক দিনরাত ২০ থেকে ২৫ ফুট গভীর পুকুরের জলে একটানা সাঁতার কেটে চলেছে। অদ্ভুত ব্যাপার হলো, জল থেকে ডাঙায় উঠে আসা মাত্রই তার সারা শরীরে তীব্র ব্যথা শুরু হয়। আর সেই ব্যথা থেকে একটু স্বস্তি পেতেই সে বারবার জলে নেমে সাঁতার কাটতে শুরু করে।

দীর্ঘদিন জলে ভিজে থাকার কারণে ইকবালের হাত ও পায়ের চামড়া সম্পূর্ণ সাদা হয়ে কুঁকড়ে গেছে। সাঁতারের নেশার পাশাপাশি সে বর্তমানে সর্দি-কাশিসহ নানা শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, মানসিক ভারসাম্যহীনতার কারণে এমন করছে সে। তবে ইকবালের নিজের দাবি, সে নাকি কোনো এক অলৌকিক বা অতিপ্রাকৃত আত্মার প্রভাবে রয়েছে।

৫ বছর ধরে বদলাতে শুরু করে আচরণ
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় পাঁচ বছর আগে থেকে ইকবালের আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গিয়েছিল। প্রথমে সে শুধু পুকুরপাড়ে উদভ্রান্তের মতো ঘুরে বেড়াত, কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে সে দিনরাত জলে পড়ে থাকছে। পরিবারের লোকজন বা প্রতিবেশীরা খাবার দিলে ডাঙায় এসে তা খেয়েই সে ফের জলে নেমে যায়। তাকে জোর করে ঘরে আটকে রাখা বা বারণ করা কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছে না।

ইকবালের পারিবারিক অবস্থাও অত্যন্ত শোচনীয়। তাঁর মা কামরিন বিবি বিড়ি বেঁধে কোনোমতে সংসার চালান। প্রায় এক বছর আগে ইকবালের বাবা হাসিবুর শেখের মৃত্যুর পর পরিবারে আর কোনো উপার্জনক্ষম ব্যক্তি নেই। ছেলেকে সুস্থ করে তুলতে অতীতে মানসিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও কোনো লাভ হয়নি। উল্টে সে মাকে মারধর করে টাকা নিয়ে পালিয়ে গিয়েছিল। বর্তমানে এই অদ্ভুত কিশোরকে একনজর দেখতে প্রতিদিন পুকুরপাড়ে কৌতূহলী মানুষের ভিড় জমছে।

সরকারি সাহায্যের আকুতি পরিবারের
উপার্জনহীন মা এবং চরম অর্থাভাবে ইকবালের উন্নত চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থাই করতে পারছেন না পরিবার। এই পরিস্থিতিতে অসহায় মা সরকারি সাহায্যের জন্য আবেদন জানিয়েছেন। অন্যদিকে, যুবকের এই করুণ অবস্থা ও জীবন নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে স্থানীয় বিধায়ক ভারত কুমার ঝাউ এবং জেলা প্রশাসনের কাছে যত দ্রুত সম্ভব তার উপযুক্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা করার জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *