‘সম্মানহানি করা হচ্ছে!’ মানসিক বিধ্বস্ততার কথা স্বীকার করে বিস্ফোরক রণজয়, নীরবতা ভেঙে কী বললেন শ্যামৌপ্তি?

টলিপাড়ায় সম্পর্কের ভাঙাগড়া নতুন কোনো ঘটনা নয়, তবে বিয়ের মাত্র ৫ থেকে ৬ মাসের মাথায় বিচ্ছেদের এমন নজিরবিহীন খবর সত্যিই বিরল। গত কয়েক দিন ধরেই অভিনেতা রণজয় বিষ্ণু ও অভিনেত্রী শ্যামৌপ্তি মুদলির ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে চর্চা তুঙ্গে। গুঞ্জন রয়েছে, ইতিমধ্যেই বরের ঘর ছেড়েছেন শ্যামৌপ্তি। আলো-আঁধারি ঘরে একা বসে রাপূর্ণার গাওয়া ‘তুমি যাও খুঁজে নাও তাঁর ঠিকানা’ গানটি গুনগুন করার একটি ভিডিওর পর থেকেই রণজয়ের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে শুরু হয় জল্পনা। তবে এই বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলতে বেজায় নারাজ শ্যামৌপ্তি।

পার্টি মুডে শ্যামৌপ্তি, বিধ্বস্ত রণজয়

বিয়ের বিতর্ক চরমে উঠলেও ক্যামেরার আড়ালে লুকিয়ে না থেকে বরং পরপর একাধিক পাবলিক অ্যাপিয়ারেন্সে নজর কাড়ছেন শ্যামৌপ্তি। সম্প্রতি জিফাইভ বাংলার এক জমকালো পার্টিতে অত্যন্ত হাসিখুশি ও প্রাণোচ্ছ্বল মেজাজে দেখা মিলেছে তাঁর। ক্যামেরার সামনে খোশমেজাজে পোজ দিলেও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে একটি শব্দও খরচ করেননি তিনি। এর আগে স্পষ্ট জানিয়েই দিয়েছিলেন যে, এই সমস্ত ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কথা বলা তাঁর মার্জিত রুচির পরিপন্থী।

অন্যদিকে, রণজয় গণমাধ্যমের সামনে খুব বেশি মুখ না খুললেও স্পষ্ট জানিয়েছেন যে তিনি মানসিকভাবে সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত। অভিনেতার অতীত প্রেম ও একাধিক সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার ইতিহাস নিয়ে নেটদুনিয়ায় চর্চা চলছে। এমনকি অতীতের মতো এবারও তাঁর বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক সুবিধা নেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগের তীর উঠছে।

কী বলছেন রণজয়?

সম্প্রতি এক ভিডিও বার্তায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে রণজয় বলেন, “আমরা দু’জনে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলাম। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এই কাদা ছোড়াছুড়ি ও অপপ্রচার একেবারেই কাম্য নয়। আমি চরম মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। একজন মহিলার সম্মানহানি করার আগে ভাবা উচিত। নিজেদের সমস্যা আমরা নিজেরাই মিটিয়ে নেব, কারও কাছে কিছু প্রমাণ করার দায় আমাদের নেই।” সহ-অভিনেত্রীদের নাম জড়িয়ে ছড়ানো সমস্ত খবর ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়ে প্রমাণ ছাড়া মিথ্যা রটনা বন্ধ করার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

কী কারণে এই দূরত্ব?

টেলিপাড়ার গুঞ্জন বলছে, শুটিং ফ্লোরের বাইরেও বর্তমান সিরিয়ালের সহ-অভিনেত্রীর সঙ্গে রণজয়ের মেলামেশা নিয়ে দানা বেঁধেছিল দ্বন্দ্ব। আবার অন্যদিকে, শ্যামৌপ্তির কেরিয়ারের হঠাৎ উত্থান, ‘ফুলপিসি’ ও ‘এডওয়ার্ড’ ছবির কাজ নিয়েও দূরত্ব বেড়েছে বলে মত অনেকের। রণজয়ের ঘনিষ্ঠমহল আবার এক রেস্তোরাঁ মালিকের সঙ্গে শ্যামৌপ্তির বন্ধুত্বের তত্ত্বও সামনে আনছে।

চলতি বছরের ১৪ই ফেব্রুয়ারি চরম ধুমধাম করে সাত পাকে বাঁধা পড়েছিলেন এই জুটি। রণজয়ের অতীত সম্পর্ক ও বয়সের ব্যবধান জেনেই যে শ্যামৌপ্তি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তা অজানা নয়। কিন্তু এত দ্রুত কীভাবে দুজনের সম্পর্কের সমীকরণ এমন তলানিতে এসে ঠেকলো, সেটাই এখন টলিপাড়ার সবচেয়ে বড় রহস্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *