অষ্টম বেতন কমিশন কি সময়সীমার আগেই রিপোর্ট দেবে? সংসদে এল মোদীর বড় বার্তা!

অষ্টম কেন্দ্রীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ নিয়ে দেশজুড়ে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের প্রতীক্ষা ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে। কমিশন গঠনের পর নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়া নিয়ে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি সংসদে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কমিশনকে সময়সীমা মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হলেও নির্ধারিত মেয়াদের আগেই তা জমা দেওয়ার বিষয়ে কোনো নিশ্চিত বার্তা মেলেনি।
সংসদে কী জানাল কেন্দ্র?
লোকসভায় সম্প্রতি এক লিখিত জবাবে অর্থ প্রতিমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরী স্পষ্ট করেছেন যে, গত বছরের ৩ নভেম্বর গঠিত এই কমিশনকে গঠনের তারিখ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে তাদের সুপারিশ জমা দিতে হবে। সরকারের এই সময়সীমা অনুযায়ী মে ২০২৭ পর্যন্ত সময় পাচ্ছে কমিশন। রাজ্যসভায় সাংসদ নীরজ শেখরের এক প্রশ্নের জবাবেও মন্ত্রী একই কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তবে কমিশন নির্ধারিত ১৮ মাস মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই রিপোর্ট পেশ করবে কি না, সে বিষয়ে সরকারের তরফ থেকে কোনো নির্দিষ্ট বা পূর্ববর্তী তারিখের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি।
কাদের ওপর প্রভাব পড়ছে?
এই বেতন কমিশনের সুপারিশগুলির দিকে তাকিয়ে রয়েছেন দেশের প্রায় ৭০ লক্ষ সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগী। সরকারের হিসাব বলছে, চলতি বছরের মার্চ মাস নাগাদ প্রায় সাড়ে পঁয়ত্রিশ লক্ষ কেন্দ্রীয় সরকারি বেসামরিক কর্মচারী কর্মরত থাকবেন। পাশাপাশি, গত ডিসেম্বরের তথ্য অনুযায়ী পেনশনভোগী ও পারিবারিক পেনশনভোগীর সংখ্যা প্রায় তেইশ লক্ষের বেশি (প্রতিরক্ষা পেনশনভোগী বাদে)। এই বিশাল অংশের বেতন সংশোধন, ভাতা এবং পেনশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি নির্ভর করছে কমিশনের প্রতিবেদনের ওপর।
বর্তমানে কোন পর্যায়ে রয়েছে কমিশন?
বর্তমানে অষ্টম বেতন কমিশন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শমূলক পর্যায়ে রয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে কর্মচারী ইউনিয়ন, বিভিন্ন অ্যাসোসিয়েশন এবং অংশীজনদের সঙ্গে লাগাতার বৈঠক করছে কমিশন। জয়পুর, চেন্নাই, পুদুচেরি এবং চণ্ডীগড়ের মতো শহরগুলিতেও এই বৈঠকগুলির সূচি নির্ধারিত রয়েছে। এর পাশাপাশি, কাজের গতি আরও বাড়াতে সম্প্রতি কমিশনের পরামর্শক নিয়োগের নির্দেশিকাতেও কিছু প্রশাসনিক সংশোধন আনা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, সরকারের বর্তমান অবস্থান স্পষ্ট যে ১৮ মাসের নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেই সুপারিশ আসার কথা। তবে কাজের প্রক্রিয়া শেষ করে কবে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা পড়ে এবং তারপরে সরকার ঠিক কবে তা বাস্তবায়নের পথে হাঁটে, এখন সেই অপেক্ষাতেই দিন গুণছেন দেশের কোটি কোটি সুবিধাভোগী।