দিল্লিতে সাইকেল কেনায় হাজার হাজার টাকার দুর্নীতি! বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ আনল ‘আপ’

ছাত্রীদের জন্য সাইকেল কেনাকাটায় বিরাট দুর্নীতির অভিযোগ তুলে শাসকদল বিজেপিকে কাঠগড়ায় তুলল আম আদমি পার্টি (AAP)। দিল্লির রাজপথে সাইকেল কেলেঙ্কারির চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনে রাজ্য সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেছেন আপ নেতৃত্ব। বুধবার একটি সাংবাদিক বৈঠক ডেকে দিল্লির আপ সভাপতি সৌরভ ভরদ্বাজ (Saurabh Bharadwaj) সরাসরি দুর্নীতির গুরুতর ইঙ্গিত দিয়ে একটি সরকারি সাইকেল এবং খুচরো বাজার থেকে কেনা আরেকটি সাইকেলের দাম ও মানের আকাশছোঁয়া তফাত সকলের সামনে তুলে ধরেন।

দাম ও গুণগত মানে বিস্তর ফারাক
সাংবাদিক বৈঠকে দুটি সাইকেল পাশাপাশি রেখে সৌরভ ভরদ্বাজ দাবি করেন, তাঁদের দল খোলা বাজার থেকে ৪,২০০ টাকা দিয়ে একটি ভালো মানের সাইকেল কিনেছে। অথচ বিজেপি সরকার টেন্ডারের মাধ্যমে প্রায় ১ লক্ষ ৩০ হাজার সাইকেল সংগ্রহ করেছে, যার প্রতিটির দাম পড়েছে ৬,৯৫৭ টাকা করে। অর্থাৎ, খোলা বাজারের চেয়ে অনেক বেশি দাম দিয়ে সাইকেল কেনা সত্ত্বেও তাতে অত্যন্ত সস্তা ও স্থানীয় মানের নিম্নমানের যন্ত্রাংশ ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ আপের।

দামের এই অসঙ্গতি তুলে ধরে সৌরভ জানান, “আপনারা এখানে দুটি সাইকেল দেখতে পাচ্ছেন। একটি গেরুয়া রঙের, যা বিজেপি সরকার দিল্লির দরিদ্র ছাত্রীদের মধ্যে বিতরণের জন্য কিনেছে এবং অন্যটি লাল রঙের, যা আমরা বাজার থেকে ৪,২০০ টাকায় কিনেছি।”

দাবি করা হয়েছে যে, খোলা বাজার থেকে কেনা সাইকেলটিতে অ্যালুমিনিয়ামের ব্রেক লিভার এবং ভালো মানের টায়ার (দাম ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা) ব্যবহার করা হয়েছে। পক্ষান্তরে, সরকারিভাবে বিতরণ করা সাইকেলটিতে নামমাত্র ১৫০ টাকা দামের সস্তা টায়ার এবং প্লাস্টিকের ব্রেক লিভার লাগানো রয়েছে।

‘নকল’ স্টিকার ও মন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ
সাংবাদিক বৈঠকে আরও বিস্ফোরক দাবি করে সৌরভ ভরদ্বাজ বলেন, বিজেপি সরকারের পক্ষ থেকে ছাত্রীদের যে সাইকেলগুলি দেওয়া হয়েছে, তাতে একটি ভেক বা নকল ‘স্কাইলার’ (Skyler) কোম্পানির স্টিকার সাঁটানো রয়েছে। অথচ সংশ্লিষ্ট সংস্থাটি এক বছর আগেই ওই মডেলটির উৎপাদন চিরতরে বন্ধ করে দিয়েছে।

এই পুরো দুর্নীতির হিসাব চাইতে এবং আসল-নকলের ফারাক পরিষ্কার করতে সরব হয়েছে আপ। সৌরভ জানান, তাঁদের কেনা সাইকেল এবং সরকারি সাইকেলটি তাঁরা সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর কাছে নিয়ে যাবেন। পাশাপাশি, দিল্লি সরকারের মন্ত্রী আশিস সুদ এবং রেখা গুপ্তার সঙ্গে দেখা করে প্রশ্ন করা হবে যে, কেন বাজারদরের চেয়ে প্রতি সাইকেলে প্রায় ২,৮০০ টাকা বেশি খরচ করা হলো এবং কেনই বা নিম্নমানের সাইকেল ছাত্রীদের হাতে তুলে দেওয়া হলো। এই সংক্রান্ত সমস্ত রসিদ ও তথ্য সোশ্যাল মিডিয়াতেও প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *