১০ হাজার টাকার বেশি আয় করলেও মিলবে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ৩০০০ টাকা? কী শর্ত রাখল রাজ্য সরকার?

‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ (Annapurna Yojana) বা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্প ঘিরে সাধারণ মানুষের মনে থাকা সমস্ত জল্পনা ও বিভ্রান্তি দূর করতে এবার সরাসরি সমস্ত নির্দেশিকা স্পষ্ট করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গত ১২ আগস্ট বুধবার নবান্নে এক গুরুত্বপূর্ণ সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানান যে, আগামী ১৭ অগস্ট থেকে যোগ্য উপভোক্তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা পাঠাতে শুরু করবে অর্থ দফতর। তবে এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে আয় এবং পেশা সংক্রান্ত বেশ কিছু নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ শর্তের কথা ঘোষণা করেছেন তিনি।

১০ হাজার টাকার বেশি আয়ের ক্ষেত্রেও বিশেষ ছাড়
সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, যে সমস্ত মহিলারা মাসে ১০ হাজার টাকার বেশি উপার্জন করেন, তাঁরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার কথা নয়। তবে এই নিয়মের ক্ষেত্রেও একটি বিশেষ সংশোধনী বা ব্যতিক্রমের কথা উল্লেখ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পরিষ্কার ভাষায় বলেন, “যে মহিলা নিজে ১০ হাজার টাকার বেশি উপার্জন করেন, তাকেও এই বিবেচনার মধ্যে প্রাথমিক ভাবে নিয়ে আসা হয়নি। কিন্তু এই ক্ষেত্রে যে পরিবারের পুরুষরা ক্যাজুয়াল বা চুক্তিভিত্তিক (Contractual) কাজ করেন, সেই বাড়ির মহিলারা বিবেচিত হবেন।” অর্থাৎ পরিবারের পুরুষ সদস্য অনিয়মিত বা চুক্তিভিত্তিক আয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকলে, সেই পরিবারের মহিলারা ১০ হাজারের বেশি আয় করলেও অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।

কারা অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাবেন না?
কাদের এই প্রকল্পের বাইরে রাখা হয়েছে, সেই বিষয়েও নির্দিষ্ট তালিকা স্পষ্ট করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান:

বয়সসীমা: আবেদনকারী মহিলাকে অবশ্যই ২৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে।

সরকারি বা সংবিধিবদ্ধ চাকরি: কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকারের কোনো বিধিবদ্ধ সংস্থা, সরকারি আন্ডারটেকিং, পঞ্চায়েত, পৌরসভা, কিংবা সরকারি বা সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক বা শিক্ষাকর্মী, এবং স্থানীয় সরকারি চাকুরিজীবী বা পেনশনভোগীরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না।

আয়কর দাতা পরিবার: যে সমস্ত পরিবার বা ব্যক্তি আয়কর দেন (যাঁদের বার্ষিক আয় ১২ লক্ষ টাকার বেশি), সেই পরিবারের কেউ এই কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন না।

কবে থেকে একাউন্টে ঢুকবে টাকা?
প্রকল্পের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং কোনো অযোগ্য ব্যক্তি যাতে ভুলবশত টাকা না পেয়ে যান, তার জন্য বিগত বেশ কিছুদিন ধরে জোরকদমে ‘ঝাড়াই-বাছাই’ বা ভেরিফিকেশনের কাজ চলছে। এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, “অনেকের অভিযোগ ছিল, যাঁরা যোগ্য নন, তাঁদেরও টাকা দিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাই আমরা মোটামুটি একটা ভেরিফিকেশনের কাজ করছি, যা আগামী কাল পর্যন্ত চালাতে হবে।” ইতিমধ্যেই যে সমস্ত উপভোক্তার তথ্য যাচাই বা ভেরিফাইড (Verified) হয়ে গেছে, তাঁদের সংখ্যা গত মাসের তুলনায় অনেকটাই বেশি। অর্থ দফতর আগামী ১৭ অগস্ট থেকেই সফলভাবে ভেরিফাইড হওয়া উপভোক্তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা ট্রান্সফার করা শুরু করবে। যাঁদের নাম এই তালিকায় সঠিকভাবে যাচাই হয়ে যাবে, তাঁরা প্রতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যেই এই আর্থিক সহায়তা পেয়ে যাবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *