আবাস প্লাসে নাম তোলার শেষ সুযোগ! ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আবেদন জানানোর বড় নির্দেশ দিলেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ

গ্রামীণ বাংলার দরিদ্র ও অভাবী মানুষদের পাকা বাড়ি পাওয়ার স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে তৎপর রাজ্য সরকার। যাঁরা এখনও পর্যন্ত ‘আবাস প্লাস’ (Awas Plus) প্রকল্পের সমীক্ষার আওতায় আসেননি, তাঁদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নির্দেশিকা সামনে এনেছেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বিশেষ ভিডিও বার্তা পোস্ট করে তিনি দ্রুত আবেদন জানানোর আর্জি জানিয়েছেন। পাশাপাশি, অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়েও বড়সড় স্বস্তিদায়ক ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
আবাস প্লাসের সার্ভে ও আবেদন প্রক্রিয়া
সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক এবং এক্স (X) হ্যান্ডলে একটি ভিডিও বার্তা পোস্ট করে রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন, গত আড়াই মাস ধরে রাজ্যের বিভিন্ন গ্রামগঞ্জে সার্ভের কাজ চলছে। তবুও প্রশাসনের নজরে এসেছে যে, এখনও এমন কিছু যোগ্য পরিবার রয়েছে যাঁদের বাড়িতে সার্ভে করার জন্য কেউ পৌঁছাতে পারেননি।
আগামী ১৫ তারিখ এই সার্ভের নির্ধারিত কাজ শেষ হচ্ছে। তাই মন্ত্রী সাফ জানিয়েছেন, “যাঁদের বাড়িতে এখনও সার্ভে হয়নি, তাঁরা পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আবেদন জানান।” সরকারের এই মহৎ প্রয়াসকে সফল করতে সাধারণ মানুষের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।
কীভাবে আবেদন জানাবেন?
যাঁদের বাড়িতে এখনও সমীক্ষক দল পৌঁছায়নি, তাঁদের সুবিধার্থে সরকারের পক্ষ থেকে একটি নির্দিষ্ট ইমেল অ্যাড্রেস দেওয়া হয়েছে। এই ইমেলে আবেদনকারীকে নিজের নাম, গ্রামের নাম, ব্লকের নাম, গ্রাম পঞ্চায়েতের নাম এবং একটি সক্রিয় ফোন নম্বর পাঠাতে হবে।
মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেছেন যে, একবার বর্তমান সার্ভের কাজ সম্পূর্ণ হয়ে গেলে পরবর্তীকালে আবার কবে এই সুযোগ আসবে তা অনিশ্চিত। ফলে বহু যোগ্য মানুষ বঞ্চিত হয়ে যেতে পারেন। তাই যত দ্রুত সম্ভব এই আবেদন জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে। এমনকি যাঁদের নিজস্ব স্মার্টফোন নেই, তাঁরাও আশেপাশের পরিচিত কারও ফোন বা মাধ্যম ব্যবহার করে এই ইমেলে তথ্য পাঠিয়ে আবেদন করতে পারবেন। সরকারের পক্ষ থেকেই পরবর্তীতে খোঁজ নিয়ে যোগ্য উপভোক্তাদের বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হবে।
অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বড় ঘোষণা
আবাস যোজনার খবরের পাশাপাশি সম্প্রতি ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ সংক্রান্ত নিয়মেও বড়সড় ছাড়ের কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গত ১২ আগস্ট বুধবার নবান্নে এক সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি স্পষ্ট জানান যে, গ্রামীণ এলাকায় যদি কারও ৩ কক্ষ বিশিষ্ট পাকা বাড়ি থাকে, তাহলেও মহিলারা অন্নপূর্ণা যোজনার আর্থিক সুবিধা পাবেন। তাঁদের অ্যাকাউন্টে নিয়মিত টাকা ঢুকবে।
তবে শহরাঞ্চল ও গ্রামীণ এলাকার বৈষম্য দূর করতে কিছু শর্তও রাখা হয়েছে। যেমন—৭টি কর্পোরেশন এলাকায় যদি কারও ৫০ ডেসিমেলের বেশি পরিমাণে নিজস্ব জমির মালিকানা থাকে, তবে তাঁরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না। পৌর ও গ্রামীণ এলাকায় জমির মালিকানার এই পরিমাণের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় দেওয়ায় এখন থেকে আরও অনেক বেশি সংখ্যক গ্রামীণ ও সাধারণ মহিলা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার বা যোজনার সুফল ঘরে তুলতে পারবেন বলেই মনে করা হচ্ছে।