জেপিএসসি-জেএসএসসি দুর্নীতিতে ৪০০০ কোটি টাকার কেলেঙ্কারি? ১১ দিন ধরে আমরণ অনশনে বসে তরুণ তুর্কিরা!

ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন (JPSC) এবং ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশন (JSSC) পরীক্ষায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে অগ্নিগর্ভ রাঁচি। দাবি আদায়ের লক্ষ্যে টানা ১১ দিন ধরে আমরণ অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন আন্দোলনকারী প্রেম নায়ক। আন্দোলনের ২০তম দিনে জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামের বিক্ষোভস্থল থেকে প্রেম হুংকার দিয়েছেন যে, শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই অনশন ও আন্দোলন চলবে এবং প্রয়োজনে তাঁরা নিজেদের জীবন বাজি রাখতেও প্রস্তুত।

অনশনকারীদের নাছোড়বান্দা মনোভাব ও চিকিৎসকদের সতর্কতা
প্রেম নায়ক গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “পরিস্থিতি দ্রুত খারাপের দিকে যাচ্ছে। চিকিৎসকরা আমাকে অনশন প্রত্যাহার করার পরামর্শ দিচ্ছেন। কিন্তু সরকার যেহেতু আমাদের যৌক্তিক দাবি মানছে না, তাই অনশনকারীসহ আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী সকলে প্রতিবাদ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বর্তমান পরিস্থিতিতে এভাবে বেঁচে থাকার কোনো অর্থ নেই।”

এদিকে, টানা ১১ দিন অনশনে থাকা অপর ছাত্রনেতা দেবেন্দ্র নাথ মাহাতো প্রতিবাদস্থলে ফিরে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন। গত ১০ আগস্ট পুলিশের লাঠিচার্জে গুরুতর আহত হওয়ার পর বর্তমানে তিনি সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় দেবেন্দ্র লিখেছেন, “হাসপাতালের বিছানায় আমার শরীরের চিকিৎসা চলছে ঠিকই, কিন্তু আমার আত্মা পড়ে রয়েছে সেই সত্যাগ্রহস্থলে, যেখানে ছাত্র ও যুবসমাজ তাদের ভবিষ্যতের জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।” সদর হাসপাতালেও নিজের অনির্দিষ্টকালের অনশন কর্মসূচি তিনি অব্যাহত রেখেছেন এবং বিক্ষোভে ফিরতে পারলে চিকিৎসকদের সমস্ত নির্দেশ কঠোরভাবে মেনে চলার আশ্বাসও দিয়েছেন।

বিধানসভা ঘেরাও ও পুলিশের দমনপীড়ন
গত সোমবার সন্ধ্যায় পুলিশ জোরপূর্বক দেবেন্দ্র নাথ মাহাতোকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। তার আগে রাঁচিতে ‘বিধানসভা ঘেরাও’ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থীর বিক্ষোভ মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে বলপ্রয়োগ করে ঝাড়খণ্ড পুলিশ। জেএসসি-সিজিএল (JSSC-CGL) পরীক্ষা বাতিল, গোটা অনিয়মের নিরপেক্ষ সিবিআই (CBI) তদন্ত এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আমূল সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছেন চাকরিপ্রার্থীরা। তাঁদের স্পষ্ট অভিযোগ, রাজ্য সরকার তাদের দাবি পুরোপুরি না মেনে কালক্ষেপণ করছে।

রাজনৈতিক সংঘাতে উত্তপ্ত ঝাড়খণ্ড, ৪শ কোটির দুর্নীতির বিস্ফোরক অভিযোগ
এই পুরো আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়েছেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী তথা বিজেপি সাংসদ সঞ্জয় শেঠ। বুধবার তিনি ঝাড়খণ্ড সরকারের তীব্র সমালোচনা করে দাবি করেন যে, জেপিএসসি এবং জেএসএসসির গোটা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রায় ৪০০ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের কণ্ঠরোধ করতে রাজ্য প্রশাসন দমনমূলক কৌশল অবলম্বন করছে বলেও তাঁর অভিযোগ।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, “লাঠিচার্জ ও প্রশাসনিক দমনপীড়নের পাশাপাশি রাঁচির ডেপুটি কমিশনার এবং সিনিয়র এসপি শিক্ষার্থীদের ভয় দেখাতে প্রতিবাদস্থলে গিয়ে জোর করে সরে যেতে বলেন। এমনকি শিক্ষার্থীরা নিজেদের টাকায় জেনারেটর এনে বিদ্যুৎ সচল করার চেষ্টা করলে পুলিশ তাও সরিয়ে দেয়।”

আর্থিক তছরুপের অভিযোগ তুলে সঞ্জয় শেঠ আরও দাবি করেন, “এই পুরো কেলেঙ্কারিটি টিডিপিএল (TDPL)-এর মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে, যার আর্থিক পরিমাণ প্রায় ৪০০ কোটি টাকা। এই দুর্নীতির পেছনে ঠিক কাদের হাত রয়েছে এবং কার কী ভূমিকা ছিল, শিক্ষার্থীরা মূলত সেই প্রশ্নেরই সঠিক উত্তর চাইছে।”

হেমন্ত সোরেনের নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের দিকে আঙুল তুলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী-ঘনিষ্ঠ ও কংগ্রেসের শীর্ষস্থানীয় নেতারা এই দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণেই সরকার সিবিআই তদন্তের পথে হাঁটতে ভয় পাচ্ছে। তাঁর দাবি, সিবিআই তদন্ত শুরু হলেই জেএমএম (JMM) ও কংগ্রেসের একাধিক বড় নেতা জেলের হাওয়া খাবেন, যার জেরে সংকটে পড়বে বর্তমান সরকারের অস্তিত্বও।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *