ছিন্নমস্তা দেবীকে নাটমঞ্চে নগ্ন রূপ ফুটিয়ে তুলে তুলকালাম! ভাইরাল ভিডিও ঘিরে চরম বিতর্ক

সোশ্যাল মিডিয়ার লাইক, কমেন্ট ও ভাইরাল হওয়ার ইঁদুরদৌড়ে এবার বিতর্কের কেন্দ্রে এক নৃত্যনাট্য। সনাতন ধর্মের দশমহাবিদ্যার অন্যতম ভয়ঙ্কর রূপ ‘দেবী ছিন্নমস্তা’কে নাট্যমঞ্চে ফুটিয়ে তুলতে গিয়ে চরম সমালোচনার মুখে পড়লেন নৃত্যশিল্পী দেবরাজ চৌধুরী। সম্প্রতি কলকাতার মোহিত মৈত্র মঞ্চে দেবী ছিন্নমস্তার বেশে পারফর্ম করতে গিয়ে নগ্নতা প্রদর্শনের অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে, যা নিয়ে বর্তমানে নেটদুনিয়ায় ঝড়ের বেগ চলছে।
ঠিক কী ঘটেছিল মঞ্চে?
শাস্ত্র মতে, আদ্যাশক্তি মহামায়ার ভয়ঙ্করতম রূপগুলির মধ্যে দেবী ছিন্নমস্তা অন্যতম—যিনি একহাতে নিজের কাটা মুণ্ডু এবং অন্যহাতে ধারালো তরবারি ধারণ করেন, আর তাঁর কণ্ঠনালী থেকে ফিনকি দিয়ে রক্ত ছুটে বের হয়। সম্প্রতি এই রূপটিই মঞ্চে ফুটিয়ে তোলেন দেবরাজ চৌধুরী। কিন্তু বিতর্কের মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়ায় তাঁর সাজপোশাক এবং অঙ্গভঙ্গি।
অভিযোগ, এলোকেসি ছিন্নমস্তার রূপ ফুটিয়ে তুলতে গিয়ে শিল্পীর নিম্নাংশে প্রায় কোনো পোশাকই ছিল না। নৃত্য পরিবেশনের এক পর্যায়ে তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে চুল সরিয়ে দর্শকদের দিকে পিছন ফিরে নিজের পশ্চাদদেশ উন্মুক্ত করেন। এই ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই তা নিয়ে নানামহল থেকে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেওয়া হয়।
সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদের ঝড় ও ট্রোল
জনৈক ওই নৃত্যশিল্পীর নৃত্যশৈলীর প্রশংসা একাংশ করলেও, ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত হানা এবং সজ্ঞানে নগ্নতা প্রদর্শনের অভিযোগে তাঁকে ঘিরে শুরু হয় ট্রোলের বন্যা। নেটিজেনদের অভিযোগ, শুধুমাত্র রাতারাতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার লক্ষ্যেই দেবীকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে এই অশ্লীলতা প্রদর্শন করা হয়েছে। ক্ষিপ্ত নেটিজেনদের একাংশের কাছ থেকে শিল্পীকে নানাবিধ হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। তবে এর বিপরীতে কিছু মানুষ দেবরাজের এই সাহসী রূপসজ্জার প্রশংসাও করেছেন।
সমালোচনার মুখে মুখ খুললেন নৃত্যশিল্পী
চারিপাশে সমালোচনার ঝড় উঠতেই অবশেষে নিজের সাফাই নিয়ে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন নৃত্যশিল্পী দেবরাজ চৌধুরী। তিনি বলেন, “গত ৮ অগাস্ট মোহিত মৈত্র মঞ্চে মহাবিদ্যা নৃত্যনাট্য অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে আমি ছিন্নমস্তার ভূমিকায় অভিনয় করি। পরিচালকের নির্দেশ মেনেই দিগম্বরী হিসেবে সাজপোশাক করা হয়েছিল। শো চলাকালীন ওই অবস্থায় আমাকে কেউ বারণও করেননি। তবে চুল সরিয়ে ব্যাক পোর্শন হাইলাইট করার বিষয়টি ভাইরাল হওয়ার জন্য ছিল না।”
তিনি আরও স্বীকার করেন, “উত্তেজনার বশে ওই মুভমেন্ট আমি করেছি, যা করা আমার ভুল ছিল। চুল সরানোর বিষয়টি স্ক্রিপ্টেড ছিল না, এটি সম্পূর্ণ আমার হটকারিতা। যাঁদের মনে আঘাত লেগেছে, তাঁদের সকলের কাছে আমি ক্ষমা চাইছি। ভবিষ্যতে আর কখনও এমন ভুল করব না।” তবে পোশাক পরিকল্পনার পুরো বিষয়টি যে প্রোডাকশন হাউসের নির্দেশেই হয়েছিল, সে কথাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন অভিযুক্ত শিল্পী।