টাটা গ্রুপে বড় ধাক্কা! এন চন্দ্রশেখরনের পদত্যাগের ঘোষণায় হুড়মুড়িয়ে পড়ল শেয়ারের দাম

টাটা সন্সের চেয়ারম্যান এন চন্দ্রশেখরন তাঁর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করার পরেই বুধবার টাটা গ্রুপের শেয়ারগুলোতে তীব্র বিক্রির চাপ লক্ষ্য করা গেছে। যদিও তিনি তাঁর বর্তমান মেয়াদ সম্পূর্ণ করবেন (যা ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রয়েছে), তবে আগাম এই পদত্যাগের খবর প্রকাশ্যে আসতেই স্টক মার্কেটে বড়সড় ধস নেমেছে। এর পাশাপাশি ক্রমবর্ধমান কাঁচা তেলের (Crude Oil) দামও বিনিয়োগকারীদের মনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
www.thehindu.com
+ 1
শেয়ার বাজারে বড় পতন
বুধবার সকালে রয়টার্স এবং দ্য ইকোনমিক টাইমস-এর প্রতিবেদনে চন্দ্রশেখরনের পদত্যাগের গুঞ্জন ছড়ানোর পরেই বাজারে পতন শুরু হয়। দুপুরের আগেই তা নিশ্চিত হয়। এর জেরে প্রায় সবকটি টাটা কোম্পানির শেয়ারের দামেই ধস নামে:
ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে (NSE) টাটা কনজুমার প্রোডাক্টস-এর শেয়ার ১.৯২% কমে ১,০৫৭.৩০ টাকায় দাঁড়িয়েছে।
টাইটান কোম্পানি-র শেয়ার কমেছে ১.১৭%।
এছাড়া টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (TCS) ৪.১% থেকে ৫.৬০% এবং টাটা ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন ১.৬০% পর্যন্ত পতন দেখেছে।
www.indiatoday.in
টাটা স্টিল ১.৯০% এবং অন্যান্য সামগ্রিক টাটা গ্রুপের শেয়ারও নিম্নমুখী ছিল। তবে টাটা মোটরসের বাণিজ্যিক যানবাহন (Commercial Vehicles) শেয়ার কিছুটা ইতিবাচক ছিল।
পদত্যাগের আসল কারণ ও পটভূমি
আগামী ১৮ আগস্ট অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বার্ষিক সাধারণ সভা (AGM)-এর ঠিক আগে এই ঘোষণা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। চন্দ্রশেখরনের পদত্যাগপত্রে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে তাঁর পাঁচ বছরের মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাবটি বোর্ড মিটিংয়ে উত্থাপন করা হলেও এক বোর্ড সদস্যের সমর্থনের অভাবে তা পাস হয়নি। টাটা ট্রাস্টের চেয়ারম্যান নোয়েল টাটার সঙ্গে শাসন ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ রূপ নিয়ে মতপার্থক্য এবং ছয় মাস ধরে কোনো সমাধান না হওয়ায় তিনি নিজেই আর পুনর্নিয়োগের আবেদন না করার সিদ্ধান্ত নেন।
চন্দ্রশেখরনের আমলের আর্থিক চিত্র ও সাফল্য
গত ছয় বছরে ‘চন্দ্র’ নামে পরিচিত এন চন্দ্রশেখরনের নেতৃত্বে টাটা গ্রুপের বাজার মূল্য প্রায় তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়ে FY26-এ ৩৯ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে এবং মুনাফা পাঁচগুণেরও বেশি বেড়েছে। টাটা সন্সের নিট মুনাফা এক বছর আগের ২৬,২৩২ কোটি টাকা থেকে বেড়ে FY26-এ দাঁড়িয়েছে ৩১,৯৬১ কোটি টাকায়। রাজস্ব বৃদ্ধি পেয়েছে ৯.১% (৪২,৩৬৭ কোটি টাকা)। এয়ার ইন্ডিয়া (যাতে এককভাবে চলতি অর্থবছরে ২২,২৩৮ কোটি টাকার লোকসান হয়েছে), সেমিকন্ডাক্টর এবং ব্যাটারির মতো ক্ষেত্রে বড় বিনিয়োগের পাশাপাশি গ্রুপটি নতুন কৌশলগত দিশা পেয়েছিল। তবে বর্তমান সময়ে নেতৃত্বের এই শূন্যতা ও স্বচ্ছতার প্রয়োজনীয়তা সামনে আসায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।