জমি কেনাবেচা ও ধর্মান্তকরণ নিয়ে কড়া আইন আনছে সরকার! বাঁকুড়ার বৈঠকে বিরাট ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

রাজ্যের পালাবদলের পর প্রশাসনিক গতি বাড়াতে এবং সার্বিক উন্নয়নকে সামনে রেখে একের পর এক বড় পদক্ষেপের ঘোষণা করে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সম্প্রতি বাঁকুড়া সহ জঙ্গলমহল ও পার্শ্ববর্তী কয়েকটি জেলার প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠকে বসে বিগত তিন মাসের কাজের খতিয়ান নেওয়ার পাশাপাশি আগামী দিনের সুদূরপ্রসারী কর্মপরিকল্পনা স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী।
জঙ্গলমহলে ধর্মান্তকরণ ও কঠোর আইনের হুংকার
এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে জঙ্গলমহল, প্রান্তিক এলাকা এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সীমান্তসংলগ্ন অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান ধর্মান্তকরণের বিষয়টি নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা জঙ্গলমহলের সাধারণ মানুষের সরলতা ও দুর্বলতাকে পুঁজি করে বিদেশ থেকে আসা অর্থের সাহায্যে যে ধর্মান্তকরণের অপচেষ্টা চলছে, সে বিষয়ে প্রশাসন সম্পূর্ণ অবগত রয়েছে। এই বেআইনি কার্যকলাপ রুখতে দ্রুত কড়া প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান যে, তাঁর সরকারের সামনে এখনও মূলত দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাকি রয়েছে— ধর্ম পরিবর্তন এবং জমি কেনাবেচা সংক্রান্ত বিষয়ে নতুন ও কঠোর আইন প্রণয়ন করা। খুব শীঘ্রই এই দুটি বিষয়ে বিশেষ আইন আনা হবে বলে তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করেছেন।
গত তিন মাসের সিদ্ধান্ত ও UCC-র ইঙ্গিত
গত তিন মাসে তাঁর নতুন সরকারের নেওয়া একাধিক নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী জানান— সীমান্ত এলাকায় জমি হস্তান্তর প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ, ওবিসি (OBC) তালিকার সংশোধন, ইমাম-মোয়াজ্জেম ভাতা বাতিল এবং গো-সুরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ ও জনমুখী সিদ্ধান্তগুলি ইতিমধ্যেই সফলভাবে কার্যকর করা হয়েছে।
এর পরেই দেশের বহুল আলোচিত অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউসিসি (UCC) এ রাজ্যেও কার্যকর করার জোরালো ইঙ্গিত দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “খুব শীঘ্রই কিছুদিনের মধ্যেই রাজ্যে ইউসিসি আসবে। এক দেশ এক প্রধান, এক রাজ্য, এক মুখ্যমন্ত্রী, এক আইন।” মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে আগামী দিনে রাজ্য বিধানসভায় নতুন আইন প্রণয়নের জল্পনা ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে।
প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক এই কঠোর পদক্ষেপগুলির পাশাপাশি জঙ্গলমহলের সার্বিক উন্নয়ন এবং প্রান্তিক মানুষের মৌলিক অধিকার সুরক্ষায় তাঁর সরকার যে বিন্দুমাত্র ছাড় দেবে না, তা এদিনের বৈঠকে ফের একবার স্পষ্ট করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।