Gen Z-কে নিয়ে গড়বেন ‘আজাদ হিন্দ পার্টি’, নতুন প্ল্যান নেতাজির বংশধরের

রাজনৈতিক কেরিয়ারে বড় মোড় আনলেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর প্রপৌত্র চন্দ্র বসু। এর আগে বিজেপি ও তৃণমূল—দুই শিবির থেকেই দূরত্ব তৈরি করার পর এবার সম্পূর্ণ নতুন দল গঠনের ঘোষণা করলেন তিনি। সাম্প্রতিককালের জেন জি (Gen Z) আন্দোলন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে যুব সম্প্রদায়কে সঙ্গে নিয়ে ‘আজাদ হিন্দ পার্টি’ তৈরির কথা জানিয়েছেন চন্দ্র বসু।
‘ইন্ডিয়া টুডে’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতির সর্বোচ্চ উদাহরণ হলেন নেতাজি। স্বাধীনতার ৮০ বছর পর যুবসমাজ যেভাবে ফের জন্তর মন্তরের আন্দোলনের মতো করে এগিয়ে এসেছে, তা থেকেই তিনি এই দল গঠনের তাগিদ অনুভব করেছেন।
কেন তৈরি করলেন নতুন দল?
চন্দ্র বসুর অভিযোগ, বর্তমান রাজনীতি ও প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানগুলি পুরোপুরি দুর্নীতিতে ভরে গিয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিকাঠামো থেকে শুরু করে শিল্প—সর্বত্রই দুর্নীতির কালো ছায়া। সমস্ত প্রধান রাজনৈতিক দলই এর সঙ্গে যুক্ত। সরকার ও প্রশাসনের ওপর বিরক্ত আজকের তরুণ প্রজন্ম নিজেদের অধিকারের লড়াইয়ের জন্য একটি সঠিক প্ল্যাটফর্ম খুঁজছে। নেতাজির ‘আজাদ হিন্দ ফৌজ’-এর আদর্শ ও চেতনা থেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে এই জেন জি-দের জন্য ‘আজাদ হিন্দ পার্টি’ সবথেকে ভালো প্ল্যাটফর্ম হবে বলে মনে করছেন তিনি।
বিজেপি ও তৃণমূল ছাড়ার কারণ কী?
২০১৬ সালে ৭ বছরের জন্য বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন চন্দ্র বসু। তাঁর দাবি, তাঁকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল যে নেতাজির আদর্শে একটি ‘আজাদ হিন্দ মোর্চা’ গঠন করা হবে এবং তাঁকে তার দায়িত্ব দেওয়া হবে। কিন্তু সাত বছর অপেক্ষা করেও সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা না হওয়ায় তিনি বিজেপি ছাড়েন এবং দলীয় নেতৃত্বকে এর জন্য দায়ী করেন।
এরপর ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে নেতাজির আদর্শে কাজ করার আশায় তিনি ঘাসফুল শিবির বা তৃণমূলে যোগ দেন। কিন্তু পরবর্তীতে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে সেই দলও ত্যাগ করেন তিনি। বর্তমান রাজনৈতিক দলগুলির একঘেঁয়ে এবং নিম্নরুচির রাজনীতি থেকেই তিনি এই মোহভঙ্গ ঘটেছে বলে জানান।
কেমন হবে ‘আজাদ হিন্দ পার্টি’?
চন্দ্র বসু জানিয়েছেন, প্রগতিশীল এবং ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতিতে বিশ্বাসী সমস্ত যুবক-যুবতী এই দলের মূল শক্তি হবে। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর আদর্শকে পাথেয় করেই দেশ গড়ার কাজ করবে এই নতুন রাজনৈতিক দল। সাম্প্রতিক জেন জি আন্দোলন থেকে উদ্বুদ্ধ হয়ে তাঁর এই রাজনৈতিক উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত ময়দানে কতটা সফল হয় এবং তরুণ প্রজন্ম একে কতটা আপন করে নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।